চলতি আইপিএলে (IPL 2026) কলকাতা নাইট রাইডার্সের (Kolkata Knight Riders) শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। তবে টুর্নামেন্টের মাঝপথ থেকে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শেষ চারের লড়াইয়ে এখনও আশা টিকিয়ে রেখেছে আজিঙ্কা রাহানেরা (Ajinkya Rahane)। বুধবার হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (Mumbai Indians) মুখোমুখি হয়েছিল নাইট বাহিনী। এই মরণ-বাঁচান ম্যাচে প্রথম থেকেই আক্রমনাত্মক লড়াই শুরু করে কলকাতা। ম্যাচ চলাকালীন গুরুতর চোট পেয়ে এবার চিন্তা বাড়ালেন অঙ্গকৃষ রঘুবংশী (Angkrish Raghuvanshi)। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে চিন্তায় কর্মকর্তারা।
Raed More: IPL’এর মধ্যেই সামনে এল নতুন স্টেডিয়াম, তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক !!
গুরুতর চোট পেলেন অঙ্গকৃষ-

এই বছর আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ব্যাটিং অর্ডার ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি। একমাত্র অঙ্গকৃষ রঘুবংশী ব্যাট হাতে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। উইকেটকিপার হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছিলেন তিনি। কিন্তু গতকাল মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন চোট পেয়ে দলের চিন্তা বাড়িয়েছেন। ম্যাচের প্রথম ইনিংসের ১১ তম ওভারে ঘটে এই ঘটনা। এই ওভারে তিলক বর্মার (Tilak Varma) মারা বল ক্যাচ ধরার জন্য দৌড়ে গিয়েছিলেন অঙ্গকৃষ।
ডাইভ দিয়ে ক্যাচ ধরার সমম এই তরুণ ব্যাটসম্যান বরুণ চক্রবর্তীর (Varun Chakaravarthy) সঙ্গে ধাক্কা খান। হাতে এবং আঙ্গুলে গুরুতর চোট পান অঙ্গকৃষ। চোট পাওয়ার পরেও তিনি কিছুক্ষণ উইকেটকিপিং চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু চোটের কারণে ১৪ তম ওভারে মাঠ ছাড়েন। প্রথম ইনিংসে বাকি সময়টা উইকেটকিপার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তেজস্বী সিং দহিয়া (Tejasvi Dahiya)। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতেও নামেননি অঙ্গকৃষ।
এই বিষয়ে সহকারী কোচ শেন ওয়াটসন (Shane Watson) বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে অঙ্গকৃষকে ক্যাচ ধরার জন্য অনেকটা দৌড়ে যেতে হয়েছিল। তিনি বরুণ চক্রবর্তীর সঙ্গে ধাক্কা খান। ঘাড়ে এবং কাঁধে ব্যথা অনুভব করছিলেন। তিনি এখন কতটা সুস্থ আছেন তা বলতে পারছি না। তবে অঙ্গকৃষের না থাকা অবশ্যই দলের ব্যাটিং অর্ডার অভাব অনুভব করছে।” ফলে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে পারেন এই তারকা।
দুরন্ত জয় KKR-

গতকাল লড়াইয়ে টিকে থাকার লক্ষ্য নিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে মাঠে নামে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে আজিম তারা হানে বোলিং করা সিদ্ধান্ত বেছে নেন। প্রথম ইনিংসে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটিং বিপর্যয় আবারো সমালোচনার মুখে পড়ে। ক্যামেরন গ্ৰিন, সুনীল নারিনের মতো বোলারদের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। ১৪৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা দেন।
এই রান তাড়া করতে নেমে ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন রোভম্যান পাওয়েল (Rovman Powell) এবং মনিশ পান্ডে (Manish Pandey)। ৩৩ বলে ৪৫ রান করেন মনিশ। রোভম্যানের ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে ৪০ রান। এর ফলে নাইট বাহিনী শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নেয়।