IPL 2026: চলতি আইপিএল বেশ জমে উঠেছে। এবারের আইপিএলে অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে শীর্ষে রয়েছে পাঞ্জাব কিংস। এখনও পর্যন্ত এই আইপিএলে অপরাজিত দল তারাই। আইপিএলের মাঝেই পরিবর্তন হলো দলের কোচ। সামনের রঞ্জি ট্রফিতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। আসাম ক্রিকেটে বদলে গেছে প্রধান কোচের মুখ। এবার আসাম ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো কিরন পাওয়ারের আগমনে। মুম্বই ও বরোদার প্রাক্তন এই ক্রিকেটারকে ২০২৬-২৭ মরসুমে সিনিয়র পুরুষ দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এটি তাঁর কোচিং কেরিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়, কারণ এই প্রথম তিনি সিনিয়র স্তরে পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবেন।
আসাম রঞ্জি দলে নতুন কোচ কিরন পাওয়ার

রঞ্জি ট্রফি ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট। এখানে সাফল্য অর্জন করতে গেলে দলকে সবদিক থেকে প্রস্তুত থাকতে হয়। কিরণ পাওয়ারের সামনে সবচেয়ে বড় কাজ হবে আসাম দলকে সেই মানে পৌঁছে দেওয়া। খেলোয়াড় হিসেবে কিরণ পাওয়ার ছিলেন অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য। ৭১টি ফার্স্ট-ক্লাস ও লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে প্রায় ৩৫০০ রান তাঁর পারফরম্যান্সের সাক্ষ্য দেয়। মুম্বই, বরোদা এবং আসামের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখিয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা কোচ হিসেবে তাঁর বড় শক্তি। তিনি ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার রমেশ পাওয়ার-এর বড় ভাই, যা ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। কোচ হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন। মুম্বই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ হিসেবে তিনি বহু তরুণ ক্রিকেটারকে গড়ে তুলেছেন। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার তিনি সিনিয়র স্তরে কাজ করতে চলেছেন। এই নতুন দায়িত্ব নিয়ে তিনি বলেছেন, “আমি আসাম রঞ্জি দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত হয়ে ভীষণ আনন্দিত। তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি খুবই উৎসুক।“
মুম্বইয়ের মাটি ছেড়ে নতুন মিশনে কিরন পাওয়ার

তিনি আরও বলেন, “আমি যখন মুম্বই অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ হিসেবে এখানে এসেছিলাম, তখন তাদের ভাবনা ও পরিকল্পনা আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছিল।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে আসামের ক্রিকেট কাঠামো তাঁকে আকৃষ্ট করেছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে এখানে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। মুম্বই ক্রিকেট ছেড়ে আসার প্রসঙ্গে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “মুম্বই ছেড়ে যেতে আমার কষ্ট হচ্ছে। জীবনে আজ আমি যা কিছু হয়েছি, তার সবটাই মুম্বই ক্রিকেটের জন্য।” মুম্বাই ক্রিকেট এসোসিয়েশন তাঁর কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বিশেষভাবে অজিঙ্কা নাইক-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যিনি কঠিন সময়ে তাঁর পাশে ছিলেন।
গত মরসুমের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হলেও জয়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি ম্যাচ ড্র হয়েছে, যেখানে জয়ের সম্ভাবনা ছিল। অর্থাৎ, সমস্যা মূলত ম্যাচ ফিনিশিংয়ে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল সার্ভিসেস ক্রিকেট টিম-এর বিরুদ্ধে ম্যাচটি, যা খুব অল্প সময়ে শেষ হয়ে রেকর্ড গড়ে। এই ম্যাচটি আসাম দলের অস্থিরতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে কিরণ পাওয়ারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কিরণ পাওয়ারের নেতৃত্বে আসাম দল যদি নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে।