পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন মানেই উত্তেজনা আর রাজনৈতিক লড়াইয়ের এক অনন্য মিশেল। আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষায় শুরু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট। তার আগেই প্রচার সেরে নিতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দল গুলিকে। কিন্তু এবারের প্রচারে এমন এক চমক দেখা গেল, যা অনেককেই অবাক করেছে। ভারতের ক্রিকেট জগত থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই রাজনীতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকার সরাসরি উপস্থিতি – এমন ঘটনা বিরল। অনেক ভারতীয় ক্রিকেটারকে ক্যারিয়ারকে আলবিদা জানানোর পরে রাজনীতির ময়দানে।
অশোক দিন্দার প্রচারে ক্রিস গেইল

অশোক দিন্দার নির্বাচনী প্রচারে দেখা গেল অবাক কান্ড। সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান তারকা ক্রিকেটার ক্রিস গেইলের কণ্ঠে শোনা গেল, ‘ভোট ফর অশোক দিন্দা’ আওয়াজ। আর এই ভিডিও সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। অশোক দিন্দা একসময় ভারতীয় ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ পেসার ছিলেন, ভারতের হয়ে ১৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন, ২০১৭ সালের পর আর আইপিএলে খেলেননি। বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) হয়ে লড়ছেন দিন্দা, গত পাঁচ বছর ধরে ময়নার বিধায়কও তিনি। ২০২১ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করে তিনি দ্রুতই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। এবারও তিনি একই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন।
https://www.facebook.com/share/r/1B2CuJ4hk9/
অন্যদিকে, ক্যারিবিয়ান সুপারস্টার ক্রিস গেইল এবং অশোক দিন্দার বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরে একসঙ্গে খেলার সুবাদে। সেই বন্ধুত্বই এখন রাজনীতির ময়দানে আলোচনার বিষয়। গেইল দীর্ঘদিন ধরে আইপিএলে খেলেছেন এবং ভারতে তাঁর জনপ্রিয়তা অত্যন্ত বেশি। তাই তাঁর একটি ছোট ভিডিওও ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই ঘটনার আইনি দিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, কোনও বিদেশি নাগরিক যদি নিজে থেকে মত প্রকাশ করেন, তা অপরাধ নয়।
আইনি সমস্যায় পড়তে পারেন দিন্দা

কিন্তু কোনও প্রার্থী যদি বিদেশিকে দিয়ে নিজের প্রচার করান, তাহলে তা বেআইনি হিসেবে গণ্য হতে পারে। এই ক্ষেত্রে ভিডিওটি দিন্দার সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পোস্ট হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ এতে বোঝানো হতে পারে যে গেইলকে পরিকল্পিতভাবে প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছে। ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে সূত্রের খবর। যদি কোনও নিয়ম ভাঙা হয়ে থাকে, তাহলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।