বিশ্ব জুড়ে সময় এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জনপ্রিয়তা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এই টুর্নামেন্টগুলিকে ঘিরে ব্যাটিং চক্রের রমরমার ছবিটাও একাধিক সময় সামনে উঠে এসেছে। আইপিএলের (IPL 2026) মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের নামও জড়িয়েছিল ফিক্সিং’এর সঙ্গে। তবে অতীতেও একাধিক ম্যাচ গড়াপেটার ঘটনা ভারতীয় ক্রিকেটে কালো অধ্যায় হয়ে আছে। এস শ্রীশান্ত (S Sreesanth), মহম্মদ আজহারউদ্দিনের (Mohammed Azharuddin) মতো ক্রিকেটারদের একসময় ব্যান পর্যন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যেই ম্যাচ ফিক্সিং’এর অভিযোগ উঠল স্বয়ং কপিল দেবের (Kapil Dev) বিরুদ্ধে। যা নিয়ে ক্রিকেট মহলে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছে।
Read More: “নুতন অধিনায়ক নিয়ে শুরু করব..”, নেতৃত্ব হারাচ্ছেন পান্থ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল LSG !!

কপিল দেবের নেতৃত্বে ভারতীয় দল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে ইতিহাস তৈরি করেছিল। তার মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে এবার ম্যাচ গড়াপোটার অভিযোগ সামনে এসেছে। জনপ্রিয় ইউটিউবার নীতিশ রাজপুত এই গুরুতর অভিযোগ সামনে এনেছেন। তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। সেখানে ১৯৯১ সালের ভারত বনাম পাকিস্তানের (India vs Pakistan Match) একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে উল্লেখ করা হয়।
এই ম্যাচে ভারতীয় দল ২৫৮ রান তারা করতে নেমে শক্তিশালী জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু দেখা যায় হঠাৎ করেই মহম্মদ আজহারউদ্দিন এবং কপিল দেব শূন্য রানে আউট হয়ে ফিরে যান। ম্যাচে আলো এতটাই কমে এসেছিল যে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা বল দেখতে পাচ্ছিলেন না। ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলে (Harsha Bhogle) পর্যন্ত বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। যদি খারাপ আলোর জন্য ভারতীয় দল ওয়াক আউট অর্থ্যাৎ মাঠ থেকে বেরিয়ে যেত তাহলে রিভার্স ক্যালকুলেশনের হিসাবে ব্লু ব্রিগেডরা জয় পেত।
কপিল দেবকে নিয়ে গুরুতর অভিযোগ-

সূত্র অনুযায়ী ভারত বনাম পাকিস্তানের এই ম্যাচে মনোজ প্রভাকর (Manoj Pravakar) এবং সঞ্জয় মাঞ্জরেকার (Sanjay Manjrekar) মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সন্দেহজনকভাবে ম্যানেজমেন্ট খেলা চালিয়ে যেতে বলে। শেষ পর্যন্ত ভারত ম্যাচটি ৪ রানে হেরে যায়। অন্যদিকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ শেষ হওয়ার পর কপিল দেব একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি কিনেছিলেন। কিন্তু সেই সময় বিসিসিআই (BCCI) আর্থিকভাবে এতটা শক্তিশালী ছিল না। ফলে শুধুমাত্র দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলে এত দামি গাড়ি কেনা সম্ভব নয় বলেই জল্পনা তৈরি হয়।
বিতর্কের মুখে দাঁড়িয়ে কপিল দেব বলেছিলেন যে একটি মডেলিং অ্যাসাইনমেন্টের উপহার হিসাবে তিনি গাড়িটি পেয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা গিয়েছিল বাস্তবে এই ধরনের কোনো চুক্তি হয়নি। উল্লেখ্য কপিল দেবের বিরুদ্ধে একাধিক সময় আর্থিক দুর্নীতি এবং ফিক্সিং’এর মতো অভিযোগ উঠলেও তদন্তের পর শেষ পর্যন্ত তিনি নিরপরাধ হিসেবেই প্রমানিত হন। এই বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নীতিশ রাজপুত।