ফাইনালে পৌঁছানোর লড়াইয়ে আজ টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল গুজরাট টাইটান্স (Gujarat Titans) ও রাজস্থান রয়্যালস (Rajasthan Royals)। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে প্রথমে টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রিয়ান পরাগ (Riyan Parag)। তবে রাজস্থান ব্যাট করতে নেমে চাপের মুখে পড়ে যায়। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল তারা। এইরকম পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi) দলের হয়ে হাল ধরেন।
তার সঙ্গে ভরসা দেন রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja)। ফলে রাজস্থান শেষ পর্যন্ত ২১৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছিল। এই রান তাড়া করতে নেমে দ্রুত স্কোরবোর্ড এগিয়ে নিয়ে যান সাই সুদর্শন (Sai Sudarshan) ও শুভমান গিল (Shubman Gill)। ফলে গুজরাট ম্যাচে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিয়ে নজির স্থাপন করল।
Read More: মুম্বাই এখন অতীতের পাতায়, লখনউয়ের জার্সিতে নতুন ভূমিকায় ফিরছেন হার্দিক পান্ডিয়া !!
বৈভবের লড়াই-

আজ রাজস্থানের হয়ে ওপেনিং করতে নেমে যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal) ২ বলে মাত্র ১ রান করে মাঠ ছাড়েন। ধ্রুব জুরেলের (Dhruv Jurel) ব্যাট থেকে আসে ৬ বলে ৭ রান। এরপর রিয়ান পরাগ (Riyan Parag) ৬ বলে ১১ রানে এবং দাশুন শানাকা (Dasun Shanaka) ৯ বলে ৩ রান করে আউট হয়ে গেলে রাজস্থান চাপের মুখে পড়ে যায়। তবে বিপর্যয়ের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে নিজেকে প্রমাণ করেন বৈভব সূর্যবংশী। তিনি রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি বাঁধেন। আজ বৈভব ৪৭ বলে ৯৬ রানের ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৮ টি চার এবং ৭ টি ছয় ।
রবীন্দ্র জাদেজা ৩৫ বলে অপরাজিত ৪৫ রান করে দলকে ভরসা দেন। হাঁকান ৫ টি চার এবং ১ টি ছয়। এছাড়াও নিচের দিকে ব্যাট করতে নেমে ডোনোভান ফারেইরা (Donovan Ferreira) ১১ বলে ৩৮ রান করে জ্বলে ওঠেন। ফলে রাজস্থান ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১৪ রান সংগ্রহ করে। উল্লেখ্য গুজরাটের হয়ে জেসন হোল্ডার (Jeson Holder) ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ২ টি উইকেট শিকার করেছেন। এর সঙ্গেই ৪ ওভারে ৪২ রান দিয়ে ১ টি উইকেট কাগিসো রাবাডা (Kagiso Rabada) নিজের দখলে করে নেন।
গুজরাটের দুরন্ত জয়-

আজ গুজরাট টাইটান্সের হয়ে ওপেনিং করতে আসেন সাই সুদর্শন ও শুভমান গিল। দুজনে মিলে আজ ৭৭ বলে ১৬৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে হিট উইকেট হন সাই। তিনি ফিরে যাওয়ার আগে তুলে নেন ৩২ ফলে ৫৮ রান। তবে গিল আজ ব্যাট হাতে ছন্দে ছিলেন। ৫৩ বলে ১০৪ আসে তার ব্যাট থেকে। ১৫ টি চার এবং ৩ টি ছয় দিয়ে তিনি ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন। এরপর জস বাটলার (Jos Buttler) এবং ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundor) স্কোরবোর্ড এগিয়ে নিয়ে যান।
৯ বলে ১৬ রান করেন ওয়াশিংটন। এছাড়াও বাটলারের ব্যাট থেকে আসে ৯ বলে ৯ রান। শেষ পর্যন্ত রাহুল তেওয়াটিয়া (Rahul Tewatia) ৮ বলে অপরাজিত ১১ রান করে দলকে সফলতা এনে দেন। ফলে গুজরাট ১৮.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রান সংগ্রহ করে নেয়। এর সঙ্গেই ৭ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করল তারা।