BCCI: ক্রিকেটে রাজনীতির প্রভাব নতুন নয় – তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি যে মাত্রায় পৌঁছেছে, তা উদ্বেগজনক। এবার রাজনীতির প্রভাবে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বোর্ড প্রধান জয় শাহ (Jay Shah) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। সম্প্রতি, উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাক -এর সাম্প্রতিক সংস্করণে উঠে এসেছে সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন। সম্পাদক লরেন্স বুথ তাঁর লেখায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর আগের মতো রাজনীতির বাইরে নেই, বরং এটি ক্রমশ রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে চলে গিয়েছে। আগে, একাধিক বার রাজনীতির কারণে ক্রিকেটে ক্ষতি হয়েছে। অলিম্পিক থেকে ক্রিকেটকে বয়কট করা, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্য ইস্যু – সব ক্ষেত্রেই রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ক্রিকেটও তার ব্যতিক্রম নয়। এমনকি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক এই খেলাকে বরাবরই প্রভাবিত করেছে।
ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে BCCI

বিসিসিআইয়ের অর্থনৈতিক শক্তি বিশ্ব ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (IPL) সাফল্য তার প্রমাণ। কিন্তু একই সঙ্গে এই শক্তি প্রশ্নও তুলেছে। বুথ লিখেছেন, “ভারতের জন্য আলাদা নিয়ম তৈরি হচ্ছে, এবং সেটিকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করতে বলা হচ্ছে।” আইসিসি-এর নীতিনির্ধারণে ভারতের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। উইজডেনের মতে, এই প্রভাব এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে অন্য দেশগুলোর মতামত প্রায় উপেক্ষিত হচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ এখন শুধুমাত্র একটি খেলা নয় – এটি জাতীয় গর্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতীক। এই প্রসঙ্গে সুর্যকুমার যাদব-এর মন্তব্য বা নরেন্দ্র মোদী-র প্রতিক্রিয়া নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। আসলে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের পর ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) সেই জয় সশস্ত্র বাহিনীকে উৎসর্গ করেন, সেটি নিছক আবেগ নয় – বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হয়েছে।
Read More: ম্যাচ হেরেই মুখে চুনকালি মাখলেন KKR অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে, শাস্তির খাঁড়া চাপালো BCCI !!
মুস্তাফিজুরকে নিয়ে মুখ খুললো উইজডেন

পাশাপাশি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির “অপারেশন সিঁদুর” বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছিল। উইজডেন শুধু ভারত নয়, পাকিস্তানকেও ছাড় দেয়নি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভী যখন বলেন “রাজনীতি ও খেলাধুলা একসঙ্গে চলতে পারে না“, তখন বুথ তা কটাক্ষ করেন। কারণ নকভি নিজেই পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী -যা এই বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বাংলাদেশে হিন্দু হত্যার পর ভারতের পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল, আর সে সময়ে বাংলাদেশের মুস্তাফিজুরকে ব্যান করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বুথ মুস্তাফিজ প্রসঙ্গে বলেছেন, “বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের হিন্দু হত্যার ঘটনার এক প্রতিশোধ হিসাবে। তার সাথে কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ মালিক শাহরুখ খানের কাছেও – যিনি নিজে মুসলিম এবং অনেকবার হিন্দুত্ববাদীর লক্ষবস্তু হয়েছেন।” পাশাপশি ক্রিকেট বিশ্বে বিসিসিআইয়ের দাপট নিয়ে মুখ খুলে বুথ বলেছেন, “বিশ্ব ক্রিকেট প্রশাসনে ভারতের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে বর্তমান পরিস্থিতি ‘ক্রমে অরওয়েলীয়’ হয়ে উঠছে। এটা এমন একটি অবস্থা যার সাথে ক্ষমতার প্রভাবে সঠিক বা সত্য বিকৃ হয়ে যায়। বাস্তবতার সঙ্গে কথার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়না।“