ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ বোলিং প্রদর্শন দেখিয়েও জায়গা হয়নি জাতীয় দলে, শনিবার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্সে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত সৃষ্টি করলেন কিংবদন্তি পেসার মোহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে শেষ বারের জন্য দেখতে পাওয়া গিয়েছিল শামিকে। দুই বছর কেটে গেলেও শামির দেখা নেই ভারতীয় দলে। এবার, বেঙ্গল টি-টোয়েন্টি লিগের তৃতীয় সংস্করণ শুরু হতেই মোহাম্মদ শামি হ্যাটট্রিক সকলের জন্য একটা বড় আকর্ষণ। অথচ আশ্চর্যের বিষয় একই দিনে চারটি সিরিজে ভারতীয় দল ঘোষণা হলেও কোথাও জায়গা মেলেনি তার।
জাতীয় দল থেকে বাইরে মোহম্মদ শামি

শনিবার দুপুরে কলকাতায় পৌঁছে, সন্ধ্যায় সরাসরি নেমে পড়েন ইডেন গার্ডেন্সে। সেদিন সার্ভোটেক শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্সের মুখোমুখি হয় শ্রাচী রাঢ় টাইগার্সের। প্রথমে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় টাইগার্স। ব্যাট হাতে দুরন্ত পারফরম্যান্স করেন বিশাল ভাটি মাত্র ৪৬ বলে ৮৬ রান করেন তিনি। যার মধ্যে ছিল পাঁচটি চার এবং ছয়টি ছক্কা। সাথে করোনলাল ৩৯ রান করে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও প্রমদ চান্ডিলার ৩৬ রানের ধরো ইনিংস খেলে ২০৮ রানের এক বিশাল স্কোর দাঁড় করায়। সেই ২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা একেবারেই খারাপ ছিল না টাইগার্সের। কিন্তু অবশেষে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শামি।
Read More: টিম ইন্ডিয়ায় বিরাট কোহলি অতীত, আফগান সিরিজে নতুন ‘ধুরন্ধর’ নিলেন এন্ট্রি !!
সার্ভোটেক শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্সের হয়ে বল হাতে ঝড় তোলেন তিনি। চার ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। এর মধ্যে ছিল একটি দুরন্ত হ্যাটট্রিক। ইনিংসের ১৬ তম ওভারে পরপর তিন জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন তিনি। প্রথমে শ্রাচী রাঢ় টাইগার্সের অধিনায়ক শাহবাজ আহমেদকে তারপর রোহিত কুমার এবং দীপাঞ্জন মুখোপাধ্যায় এই তিনজনকে আউট করেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। এছাড়া ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। মাত্র দুই বলে আট রান করে অপরাজিত থাকেন। অবশেষে ১৮৪ রানের থেমে যায় টাইগার্সের ইনিংস।
শামির হ্যাটট্রিকে তৈরি নয়া রেকর্ড

২৪ রানে এই ম্যাচ জিতে নেয় স্ট্রাইকার্স। এই জয়ের সামির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ কিংস এর বিরুদ্ধে খেলতে নামে সোবিস্কো স্ম্যাশার্স মালদা। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি কমিয়ে ১৫ ওভারে আনা হয়। মুর্শিদাবাদ প্রথমেই ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৩৪ রান তোলে। এই লক্ষ তারা করতে নেমে মালদা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। অবশেষে ১৩.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মালদা। টানা ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে যাচ্ছেন শামি। কয়েকদিন আগে যখন আফগানদের বিরুদ্ধে টেস্ট দলে ঘোষণা করেছিল বিসিসিআই তখন মুখ্য নির্বাচক জানিয়ে দিয়েছিলেন শামি ছোট ফরম্যাটের জন্য ফিট, বড় ফরম্যাটে খেলার জন্য তাঁর সেই ফিটনেস নেই। তবে এই পরিস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা হলো না তাঁর।