সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় কিংবদন্তি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে (Sourav Ganguly) ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা ক্রীড়া জগৎ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলেও তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হয় যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি সৌরভ গাঙ্গুলীর মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছেন বহরম পুরের জয়ী প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের (Yusuf Pathan) কাছে।
সেই বার্তায় বলা হয়েছিল ইউসুফ যেন তার সংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন যাতে সেই আসনে উপনির্বাচন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এই খবরটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই তা তুমুল ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অবশেষে সৌরভ গাঙ্গুলি নিজের মুখ খোলেন এবং একটি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে এই সমস্ত দাবি অস্বীকার করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে এরকম কোনরকম কোন বার্তা তিনি বহন করেননি। এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে তাকে এমন কোন অনুরোধ করা হয়নি।
Read More: ‘বিহারি’ বলে হেনস্তার অভিযোগ, বৈভবের সাফল্যে গর্বিত লাস্যময়ী
বার্তাবাহকের ভূমিকা পালন করলেন সৌরভ

প্রসঙ্গত, বহরমপুর আসন নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে টানাপোড়েন তুঙ্গে। দলীয় সূত্রের খবর, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহরমপুরের বর্তমান সংসদ সদস্য ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করার অনুরোধ করেছিলেন। তবে জানা গিয়েছে, দলের সুপ্রিমোর এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউসুফ পাঠান। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের এখনও অনেক দেরি। তাই তিনি চেয়েছিলেন ইউসুফ পাঠান পদত্যাগ করুক। যেহেতু এবার বিধানসভা নির্বাচনে নিজের জায়গায় হেরেছিলেন মমতা তাই তাঁর পক্ষে বিরোধী দলনেত্রী হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। এই পরিস্থিতিতে ইউসুফ পাঠাননের আসন চেয়ে বসেছিলেন মমতা।
অন্যদিকে সৌরভের সঙ্গে ইউসুফ পাঠানের সঙ্গেও তার কোন যোগাযোগ হয়নি। এছাড়া তিনি এটাও স্পষ্ট করে দেন যে, তিনি কখনো কোন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি পুরো ঘটনাটিকে গুজব এবং ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। সৌরভ সাংবাদিক মাধ্যমের তরফে এ কথাও জানান যে কোন তথ্য সত্যতা যাচাই না করে তা প্রকাশ্যে আনা উচিত নয়।আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কোন গুজব ছড়াতে একদমই সময় নেয় না এবং তা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পৌঁছে যায় হাজার হাজার মানুষের কাছে, সেটা কখনো কখনো হয়ে ওঠে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আবার কখনো কখনো সেটা ঝুঁকিও বটে। যা মুহূর্তের মধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সম্প্রতি সৌরভের এই বিতর্কে নাম জড়ানো তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।