কলকাতার ময়দানে মোহনবাগান (Mahun Bagan) ও ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) মতো দল দীর্ঘদিন ভারতীয় ফুটবলে ছাপ ফেলে আসছে। তাদের সাফল্য বাংলার ফুটবলকে গর্বিত করেছে। এই বছর আইএসএলের (ISL) লড়াইয়ে ভারত সেরা হয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেডরা। অন্যদিকে গত কয়েক বছরে নতুন দল হিসাবে ডায়মন্ড হারবার এফসি (Diamond Harbour FC) বিশেষ করে নজর কেড়েছে। তারা সাম্প্রতিক সময় আইলিগে দুরন্ত পারফর্ম্যান্স আইএসএলের টিকিট ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) এই দলের বিরুদ্ধে এবার একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (Nisith Pramanick)।
Read More: “ব্যাট করতেই তো পারে না..”, পান্থ’কে সহ অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ ফাঁস করলেন গম্ভীর !!
ডায়মন্ড হারবারকে নিয়ে বিস্ফোরক-

বাংলার ফুটবলে উল্কার গতিতে উঠে এসেছে ডায়মন্ড হারবার এফসি। গত বছর মেসিকে (Lionel Messi) ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত ফ্রেন্ডলি ম্যাচে মোহনবাগানের সঙ্গে এই নবাগত ক্লাবকে খেলতে দেখা গিয়েছিল। কেন ইস্টবেঙ্গল এই ম্যাচে খেলেনি তা নিয়েও সেই সময় বিতর্ক তৈরি হয়। এবার ডায়মন্ড হারবার এফসি ক্লাবের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।
সম্প্রতি তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবারকে নিয়ে একাধিক অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। ক্লাবটি নিয়ম মেনে তৈরি হয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়াও ক্লাবে কোথা থেকে টাকা আসতো এবং সেইগুলি নিয়মমাফিক আদৌ খরচ করা হতো কিনা তা নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। সমস্ত বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
শুরু হয়েছে তদন্ত-

ডায়মন হারবার এফসি দলের স্পন্সর কারা ছিলেন তাদের তালিকা প্রস্তুত করছে তদন্তকারী সংস্থা। ক্রীড়ামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “ক্লাবের স্পন্সরদের ডেকে কথা বলা হবে। ক্লাবকে যে টাকা দেওয়া হয়েছে তার উৎস কী খতিয়ে দেখা হবে।” ক্রীড়া মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। সমস্ত বিষয়টি ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকেও (IFA) জানানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।
নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও আমরা আলোচনা করছি। খুব তাড়াতাড়ি এই বিষয়ে আমরা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাব। এমন কিছু ফুটবলারকে নেওয়া হয়েছিল যারা সরকারি চাকরিতে কর্মরত। আমরা চাই সব ক্লাব ভালো খেলুক এবং ভারতীয় ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাক। কিন্তু কোনো ক্লাবের বেআইনি কার্যকলাপকে বরদাস্ত করা হবে না।” এছাড়াও ডায়মন্ড হারবার বেআইনিভাবে মাঠ দখল করে রেখেছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।