ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চে নাটকীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছিল কেকেআর বনাম লখনৌ সুপার জায়ান্টস ম্যাচে। সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া এই ম্যাচে কেকেআরের তারকা ব্যাটসম্যান অঙ্গকৃষ রঘুবংশীকে (Angkrish Raghuvanshi) কেন্দ্র করে সেই নাটকীয়তা যেন সবকিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছে। লখনৌ সুপার জয়েন্টস এবং কোলকাতা নাইট রাইডার্স ম্যাচে তার আউট হওয়া নিয়ে যে নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল সেটাই যেন নতুন মোড় নিয়েছে।
রঘুবংশীর আউটকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক

রঘুবংশীর আউট হওয়ার ঘটনাটি ঘটেছিল ম্যাচের পঞ্চম ওভারে। বল করছিলেন প্রিন্স যাদব। বলটি হালকা হাতে ঠেলে দিয়ে রান নিতে যান রঘুবংশী। প্রথমে মনে হচ্ছিল সেই বলটিতে সহজেই সিঙ্গেল রান নেওয়া যাবে। কিন্তু নন স্ট্রাইকার ক্যামেরান গ্রিন (Cameron Green) রান নিতে রাজি না হওয়ায় তাকে আবার ফেরত আসতে হয় নিজের জায়গায়। ঠিক সেই সময়ই বলটি কুড়িয়ে থ্রো করেন মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)।
Read More: লজ্জার রেকর্ড! প্রথম দল হিসেবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স
তখন সেই বলটি গিয়ে লাগে রঘুবংশীর গায়ে। আর তারপর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। প্রথমে বিষয়টি খুব সাধারণ বলেই মনে হয়েছিল। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ব্যাটার স্বাভাবিকভাবেই নিজের ক্রিজে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু রিপ্লে দেখার পর ছবিটা বদলে যায়। তৃতীয় আম্পায়ার লক্ষ্য করেন, রঘুবংশীর দৌড়ের পথ ছিল অস্বাভাবিক। তিনি সরাসরি লাইনে না গিয়ে কিছুটা বাঁক নিয়ে বলের লাইনের দিকে চলে আসেন।
রঘুবংশীর আউট নিয়ে এমসিসি র কড়া রায়

এমসিসি ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে তাদের মনে হয়েছে, এই পরিবর্তন ছিল অত্যন্ত সচেতন। তিনি পরিস্থিতি বুঝেই দিক পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাই ক্রিকেট আইনের ৩৭.১.১ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যাটার ইচ্ছাকৃতভাবে ফিল্ডিং দলের কাজে বাধা দেন, তবে তাঁকে ‘অ্যাবস্ট্রাক্টিং দা ফিল্ড’ আউট দেওয়া যেতে পারে। রঘুবংশী র ঘটনাটা এই আইনের মধ্যেই পড়ে তাই তাকে আউট দেওয়া হয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল – বল স্টাম্পে লাগত কি না, বা ব্যাটার ক্রিজে পৌঁছতে পারতেন কি না -এসব নয়। মূল বিচার্য বিষয় হল, ব্যাটার ইচ্ছাকৃতভাবে ফিল্ডিংয়ে বাধা দিয়েছেন কিনা। তিনি যদি নিজের স্বাভাবিক লাইনে থাকতেন, তাহলে বল তার শরীরে লাগার সম্ভবনা কম ছিল, হয়তো এই সংঘর্ষ হত না। তাঁর দিক পরিবর্তনই এই আউটের মূল কারণ। এই ঘটনার পর তুমুল অসন্তোষ দেখা গেছে নাইট শিবিরে।