ক্রিকেটে নতুন প্রতিভার উত্থান হয়েই থাকে কিন্তু বৈভব সূর্যবংশের (Vaibhav Sooryavanshi) মত এত কম বয়সে এমন প্রতিভার প্রভাব খুব কমই দেখা যায়। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং একদিকে যেমন আধুনিক ক্রিকেট এর প্রতীক অন্যদিকে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটার এবং কোচ গ্রেগ চ্যাপেল এর মত একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি। সদ্য আইপিএলের মঞ্চে অসাধারণ পারফরম্যান্স ছিল তাঁর। শুধু তাই নয় তাঁর এই পারফরম্যান্সের দৌলতে তিনি ভারতীয় এ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ভারত,শ্রীলংকা এবং আফগানিস্তান এ দলের বিরুদ্ধে। এমনকি ভারতীয় জাতীয় দলের হয়েও তাকে আগামী ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সিরিজে দেখতে পাওয়া যাবে।
সম্প্রতি অজি সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক ভারতীয় দলের হেড কোচ গ্রেগ চ্যাপেল তার বক্তব্যে স্পষ্ট ভাবে বলেছেন আধুনিক ক্রিকেট ব্যাটিংকে একেবারে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে বৈভব। কিন্তু এটা কি ক্রিকেটের স্বাভাবিক বিবর্তন? নাকি খেলার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সূচনা? বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটিং স্টাইল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক, তবে তাঁর ব্যাটিংকে ‘ক্রিকেটের অসুখ’ বলেই তুলনা করেছেন চ্যাপেল। দ্রুতর আমতলা এবং ভয়ডরহীন মানসিকতা সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক আদর্শ ব্যাটার। কিন্তু চ্যাপেল এর মতে, “একজন কিশোর যদি এত সহজে বিশ্বের সেরা বোলারদের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে বোলাররা আজ কোথায় দাঁড়িয়ে?“
Read More: ‘কারো ছায়ায় কাজ করবো না…” T20 অধিনায়ক হয়েই গম্ভীরকে কড়া বার্তা শ্রেয়াসের !!
বৈভবকে নিয়ে বেফাঁস বয়ান গ্রেগ চ্যাপেলের

এই প্রশ্নের পিছনে রয়েছে কিছু পরিবর্তন। ব্যাটের প্রযুক্তিগত উন্নতি, ছোট বাউন্ডারি এবং ব্যাটিং সহায়ক পিচ সব মিলিয়ে ক্রিকেট অনেকটাই ব্যাটারদের দিকে ঝুঁকে গিয়েছে। তাই তার মতে যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে ক্রিকেট শুধুমাত্র বাউন্ডারি মারার খেলায় পরিণত হবে। আসলে বৈভব নতুন যুগের প্রতীক তার মত খেলোয়াড়রা খেলাটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তবে চ্যাপেলের সতর্কবার্তা একেবারেই উপেক্ষা করা যায় না। ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য হল ব্যাট বলের লড়াই। সেই লড়াই যদি কম যায় তাহলে খেলা দেখার ইচ্ছাটাই দর্শকদের আর থাকবে না।
তাই তিনি বলেন, “যদি ক্রিকেট এইভাবে একপেসে হয়ে যায় তাহলে দর্শকদের দেখার আগ্রহ কমে যাবে। আজ হয়তো বৈভবকে নিয়ে একের পর এক হেডলাইন হচ্ছে। ওকে দেখেই আগামী প্রজন্ম ক্রিকেট খেলতে শিখবে। তবে সেই সময়ে বৈভবের মতন তরুণ খেলোয়াড়রা উঠে আসলে সেটা কিন্তু আসলে ক্রিকেটের ভেতরকার অসুখের ছবি।” কারণ তিনি বলতে চেয়েছেন মানুষ শুধু ছক্কা দেখতে চায় না তারা লড়াই দেখতে চায়।