ভারতীয় ক্রিকেটে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শ্রেয়াস আইয়ার (Shreyas Iyer)। সূর্যকুমার যাদবের পরিবর্তে তাকে টি-টোয়েন্টি দলে অধিনায়ক করা হয়েছে। যা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। আর দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তার মন্তব্য কে ঘিরে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম জনসমক্ষে তার বক্তব্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি কারোর ছায়ায় নয়, নিজের মত করেই দলকে নেতৃত্ব দেবেন। তিনি বিশ্বাস করেন একজন নেতা তখনই সফল হন যখন তিনি তার স্বাভাবিকত্বটা বজায় রাখতে পারেন।
মন্তব্য তিনি বলেন “আমি ছোটবেলা থেকে সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। মুম্বাইয়ের ছোট ছোট বাচ্চারা যেমন স্বপ্ন দেখে।” তিনি আরো বলেন, “নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছি বলে ব্যক্তিত্বটা পাল্টে ফেলতে হবে এমনটা নয়, আমি যেমন ছিলাম তেমনি থাকবো।” এই পরিস্থিতিতে উঠে আসে গৌতম গাম্ভীরের (Gautam Gambhir) প্রসঙ্গ। কারণ তিনি স্পষ্টভাষী। তার অধীনে দল পরিচালনায় শৃঙ্খলা এবং পারফরমেন্সের উপর জোর দেওয়া হয়। অনেকেই মনে করেন যে তার সময় এই দলে বড় পরিবর্তণ এসেছে।
ক্যাপ্টেন হয়েই স্পষ্ট বয়ান শ্রেয়াসের

এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে একসাথে কাজ করেছেন শ্রেয়াস ও গম্ভীর। শ্রেয়াস যখন দলের ক্যাপ্টেন ছিলেন তখন গম্ভীর ছিলেন কেকেআরের মেন্টর। কেকেআরের হয়ে শিরোপা জেতার পর গম্ভীর ভারতীয় দলের হেড কোচ হন এবং শ্রেয়াস কেকেআর ছেড়ে দেন। পরে শ্রেয়াস এক সাক্ষাৎকারে জানান কেকেআরের হয়ে ট্রফি জিতলেও তাকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। আর এখানেই গম্ভীর ও শ্রেয়াসের ফ্যাক্টর ব্যাপক ভাবে কাজ করে কারণ গম্ভীর আগে কেকেআরের হয়ে দুটি শিরোপা জেতেন ক্যাপ্টেন হিসাবে এবং তিনি মেন্টর হতেই তৃতীয় শিরোপা আসে দলের। যে কারণে শ্রেয়াসের থেকে ট্রফি জয়ের কৃতিত্ব গম্ভীরকে দেওয়া হতো।
অন্যদিকে গম্ভীরের সময়েই বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার মত ক্রিকেটাররা টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে শ্রেয়াস এদিক থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি কারোর ছায়ায় নেতৃত্ব দিতে চান না। যদিও তিনি সরাসরি কিছু বলেননি তবুও তার বক্তব্যে অনেকের কাছে এটাই স্পষ্ট যে তিনি কোচের সঙ্গে কাজ করবেন কিন্তু নিজের পরিচয় হারাবেন না। এই আত্মবিশ্বাসই একজন নেতাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। আগামী আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড সফর শ্রেয়াসের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। বিদেশের মাটিতে নেতৃত্ব দেওয়া মানে সব সময়ই কঠিন। তার আগামী দিনের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে তার ভবিষ্যৎ।