যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসি কান্ডকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ক্রমশই বড় আকার নিচ্ছে। আর এই বিতরকের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। গত বছর ডিসেম্বর মাসে ঘটনাটি ঘটে। বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওলেন মেসিকে কেন্দ্র করে যুবভারতীতে এক বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
হাজার হাজার মানুষ উচ্চ মূল্যে মেসিকে একবার চোখের দেখা দেখার জন্য মাঠে হাজির হন কিন্তু অভিযোগ ওঠে সাধারণ দর্শকের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী মাঠের ভেতর মেসিকে ঘিরে ছিলেন শুধুমাত্র বিশিষ্ট ব্যক্তি। যাদের মধ্যে অরূপ বিশ্বাস এবং তার ঘনিষ্ঠরা উপস্থিত ছিলেন। আর এই ঘটনা এই জনসাধারণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যার ফলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং মেসির মাঠ থেকে বাইরে চলে যাওয়া আরো বিতর্কের সৃষ্টি করে।
Read More: ইউসুফ পাঠানের কাছে মমতার দূত সৌরভ, মহারাজকে নিয়ে উঠলো বড় অভিযোগ !!
মেসি বিতর্কে ছাড় পাবেন না অরূপ

এই ঘটনার সরাসরি প্রভাব পড়ে অরূপ বিশ্বাসের ওপর। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হিসেবে তিনি তার ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তাকে ক্রীড়া মন্ত্রীর পর থেকে ইস্তফা দিতে হয়। আর এরপর থেকেই শুরু হয় আইনি লড়াই। অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত সরকার পরিবর্তনের পর অরূপ বিশ্বাসের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। আর তারপর থেকেই অরূপ বিশ্বাসের নামে পুলিশি তলব শুরু হয়। কিন্তু সেই তলব এখনো পর্যন্ত এড়িয়ে চলেছে অরূপ বিশ্বাস।
তিনি আইনি পথের স্বস্তি এড়ানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু হাইকোর্ট এই মামলা শুনানিতে রাজি হয়নি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে আদালতে বর্তমানে বিপুল পরিমাণে মামলা জমা রয়েছে। এই মুহূর্তে শুনানি করা সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তবেই মামলা হবে। এই পরিস্থিতিতে অরূপ বিশ্বাসের চাপ আরো বেড়ে যায়। কারণ আইনি সুরক্ষা না পাওয়ায় গ্রেফতারের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যেই পুলিশ তার বাড়িতে নোটিশ দিয়ে গেছে এবং থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক না হলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।