ক্রিকেট মাঠে খেলোয়াড়দের বয়স যাচাইয়ের ঘটনা নতুন নয়। তবে এবার নজর পড়েছে আম্পায়ারদের দিকে। স্থানীয় আম্পায়ারদের বয়স সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB)। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সিএবি সম্প্রতি স্থানীয় আম্পায়ারদের উদ্দেশে একটি নোটিশ জারি করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রত্যেক আম্পায়ারকে বয়সের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড, পাসপোর্ট, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড অথবা জন্ম সনদের মধ্যে যে কোনও একটি নথি জমা দিতে হবে। সংস্থার দাবি, বয়স সংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আপাতত সিএবির অধীনে প্রায় দেড়শো আম্পায়ার নথিভুক্ত রয়েছেন, যার মধ্যে অধিকাংশই নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করেন।
আম্পায়ারদের জন্য বড় নির্দেশ CAB’এর

সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, ৬২ বছর বয়স পূর্ণ হলে কোনও আম্পায়ার আর দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। পাশাপাশি আম্পায়ারিং পরীক্ষায় বসার ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। সেই কারণেই পুরনো নথির সঙ্গে বর্তমান তথ্য মিলিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সিএবি সচিব বাবলু কোল বলেন, “এ রকম প্রক্রিয়া আগে হয়নি, এমন নয়। আম্পায়ারদেরও একটি নির্দিষ্ট অবসরের বয়স রয়েছে। আমরা শুধু নিয়ম মেনে সমস্ত তথ্য যাচাই করে নিচ্ছি। খেলোয়াড়দের নথি যেমন পরীক্ষা করা হয়, আম্পায়ারদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত।”
Read More: ক্রিকেট ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ, টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা তারকা ক্রিকেটারের !!
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ নথি জমা দিতে না পারলে অতিরিক্ত কিছু সময় দেওয়া হতে পারে। তবে এরপরও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আম্পায়ারিং করার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সিএবির এই উদ্যোগকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ক্রিকেট প্রশাসনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, যদি আম্পায়ারদের ক্ষেত্রে বয়স সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়, তাহলে প্রশাসনিক পদে থাকা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা উচিত কি না।