বিশ্ব ফুটবলের মহাযুদ্ধে (Football WC 2026) মাতোয়ারা হতে নিজেদের প্রস্তুত করছে ভক্তরা। বিশ্বের অন্যতম সফল ফুটবলার হিসাবে নজির স্থাপন করেছেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। তিনি শেষ বিশ্বকাপে ট্রফি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই স্মৃতি এখনও সমর্থকদের মনে তাজা হয়ে আছে। ফলে গত বছর যখন এই তারকা কলকাতায় পা রাখেন তাকে নিয়ে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। নিজে হাতে নিজের একটি স্ট্যাচু উন্মোচন করেছিলেন। কিন্তু এই কিংবদন্তির স্মৃতি ধরে রাখতে পারল না শহর। সারা জীবনের অর্জিত সম্মানের এক খরাপ অধ্যায় হিসেবে থেকে গেল ‘সিটি অফ জয়’।
Read Also: ওপেনিংয়ে রাহানে-ঋতুরাজ, ক্যাপ্টেন হার্দিক, প্রকাশ্যে IPL 2026’এর ফ্লপ একাদশ !!
মেসির সম্মান রক্ষা করতে ব্যর্থ কলকাতা-

গত বছর ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার মাটিতে পা রেখেছিলেন লিওনেল মেসি। তাকে নিয়ে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তার অভাব থাকায় এবং তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas) অদ্ভুত কার্যকলাপের কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এর সঙ্গে কলকাতা সফরে নিজের ৭০ ফুটের একটি মূর্তি উন্মোচন করেছিলেন মেসি। সেই মূর্তি মেসির মতো দেখতে হয়নি বলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল সেই সময়।
অন্যদিকে সম্প্রতি এই মূর্তিটি হাওয়ায় দুলছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন। তার ভিত্তিতে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। এটিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সোমবার তৎপরতার সঙ্গে পিডব্লিউডির বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে মূর্তিটি নামানো হয়। ক্রেনে করে নামিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে লড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এই দৃশ্য দেখে মন ভেঙেছে মসি ভক্তদের। ফুটবল পাগল কলকাতা এই কিংবদন্তীর সম্মান রক্ষা করতে পারল না বলেই মনে করছেন তারা।
মেসি, ফুটবলের রাজপুত্র-

লিওনেল মেসি বার্সিলোনা (Barcelona) থেকে ফুটবলের জীবন শুরু করেছিলেন। গ্ৰোথ হরমোনের সমস্যা থাকলেও সেই প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন অন্যতম তারকা। তার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ করেন বিশ্ববাসীকে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে জাতীয় দলের হয়েও এনে দিয়েছেন অসংখ্য সাফল্য। দেশের ১৯৮ ম্যাচে তুলে নিয়েছেন ১১৬ টি গোল। ৮ বার ব্যালন ডি’আর পেয়েছেন মেসি। এই রেকর্ড আর কোনো ফুটবলারের নেই।
দীর্ঘ সাফল্যের তালিকা থাকার পরেও বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পাচ্ছিলেন না মেসি। তবে ২০২২ কাতর বিশ্বকাপে সেই সুযোগ সামনে আসে। ফাইনালে আর্জেন্টিনা ফ্রান্সের মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচটি পূর্ণ সময় ৩-৩ ড্র হয়। মেসি নিজে দুটি গোল করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুটআউটে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্ব সেরা হয় আর্জেন্টিনা।