সোমবারের আইপিএল ২০২৬ ম্যাচে তিলক ভার্মা (Tilak Varma) যেন নতুন করে নিজের পরিচয় দিলেন। টানা ব্যর্থতার পর অবশেষে ব্যাট হাতে বিস্ফোরক প্রত্যাবর্তন – ৪৫ বলে অপরাজিত ১০১ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেললেন তিনি। আগের পাঁচ ইনিংসে ২০, ০, ১৪, ১ ও ৮ – এই হতাশাজনক স্কোরগুলোর পর তাঁর এই শতরান যেন আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার নিখুঁত জবাব। তবে এই ইনিংসের আসল সৌন্দর্য ছিল এর গড়ে ওঠার ধরণে। শুরুটা ছিল ধীর, প্রথম ২২ বলে মাত্র ১৯ রান। কিন্তু এরপর যেন অন্য এক তিলক! পরের ২৩ বলেই তুলে নেন ৮২ রান। ইনিংস জুড়ে ছিল আটটি চার ও সাতটি বিশাল ছক্কা, যার অনেকগুলোই ছিল কভারের উপর দিয়ে কিংবা সোজা মাঠের দিকে দুর্দান্ত শট।
রেকর্ড- ব্রেকিং সেঞ্চুরি হাঁকালেন তিলক ভার্মা

১৪তম ওভারের শেষে যখন তিনি ১৯ রানে, তখন হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হয়। ঠিক কী বলা হয়েছিল জানা না গেলেও, সেই মুহূর্তটাই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ১৫তম ওভারে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের বিরুদ্ধে প্রথম বাউন্ডারি হাঁকানোর পর থেকেই শুরু হয় তাঁর তাণ্ডব – একটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন তিনি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পান্ডিয়া নিজে ১৬ বলে ১৫ রান করলেও তিলককে আক্রমণাত্মক খেলতে উৎসাহ জুগিয়েছেন। দু’জনের মধ্যে ৩৮ বলে ৮১ রানের জুটি ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলে। শেষ ছয় ওভারে আসে ৯৬ রান, যেখানে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের শেষ দুই ওভারেই খরচ হয় ৪১ রান।
Read More; ‘একেই বলে মারণ কামড় ..’, তিলকের ব্যাটে-অশ্বিনীর বলে দুরন্ত জয় মুম্বাইয়ের, লজ্জার হারে ট্রোলের মুখে গুজরাট !!
হার্দিকের বকুনিতে সেঞ্চুরি তিলকের ব্যাটে

অন্যদিকে, ম্যাচের শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাগিসো রাবাদা দুর্দান্ত বোলিং করে পাওয়ারপ্লেতেই টপ অর্ডার ভেঙে দেন। চার ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন তিনি। ড্যানিশ মালেওয়া এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন, কুইন্টন ডি কক শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন, আর সূর্যকুমার যাদবকে দারুণ এক দ্রুতগতির ডেলিভারিতে বোল্ড করেন রাবাডা – যা ছিল দিনের সেরা উইকেটগুলোর একটি।
When Tilak Varma struggling at 19 off 22 balls, a strict word from Hardik Pandya changed everything—he smashed 82 runs off the next 23 balls and scored his first IPL century 🔥#GTvsMI #MIvsGT pic.twitter.com/ouipWuWThk
— Sekar 𝕏 (@itzSekar) April 20, 2026
এরপর নমন ধীর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি। কৌশলগত বিরতির পরেই তিলক ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন এবং এক অবিশ্বাস্য ইনিংস উপহার দেন। এই শতরান শুধু ম্যাচ জেতানোর জন্য নয়, বরং ইতিহাস গড়ার জন্যও স্মরণীয়। এটি আইপিএলের ইতিহাসে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে করা দ্রুততম সেঞ্চুরিগুলোর একটি। গুজরাতকে নরেন্দ্র মোদি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম বারের জন্য পরাস্ত করলো মুম্বই পল্টন। এই জয়ের সাথে সাথে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে মুম্বই।