কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (Kolkata Knight Riders) নিয়ে বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে প্রতি বছর উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। এই বছর বিধানসভা ভোটের আবহে ইডেন গার্ডেন্সে নাইট বাহিনীদের ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সফলভাবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলো আয়োজন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলী (Sourav Ganguly)। সিএবি সভাপতি নিরাপত্তা সহ প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তত্ত্বাবধান করেন। সম্প্রতি মহারাজকে বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের (Bengal Pro T20 League) নিলামে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। এবার সৌরভের প্রিয়জনকে হারানোর শোকবার্তা সামনে উঠে এল।
Read More: প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত গুজরাট, গিলের নেতৃত্বে দাপট অব্যাহত
প্রিয়জনকে হারালেন সৌরভ গাঙ্গুলী-

সৌরভ গাঙ্গুলী বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রের সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িয়ে আছেন। তার ক্রিকেটের সঙ্গে সঙ্গে ফুটবল খেলার প্রতিও বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। গতকাল মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি এবং প্রাক্তন সাংসদ টুটু বসুর (Tutu Basu) মৃত্যুর খবর সামনে আসে। আজ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছে গিয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। টুটু বসুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং বিভিন্ন স্মৃতির তুলে ধরেন।
সৌরভ বলেন, “মোহনবাগান ক্লাব মানেই টুটু বসু। যখন মোহনবাগানকে ফুটবলে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দরকার ছিল তখন তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এই বয়সেও দলের সঙ্গে ছিলেন। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্ষমতা কমে যায়। ওনার প্রতি অনেক ভালোবাসা এবং আত্মার শান্তি কামনা করছি। সারা জীবন কেউ থাকে না। মোহনবাগানের হয়ে খেলা এবং মোহনবাগানের খেলা দেখা রঅনেক স্মৃতি রয়েছে। খুবই দুঃখের সময়। ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সম্পর্ক ছিল।”
মোহনবাগান অন্তপ্রাণ টুটু বসুর-

সোমবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হন দক্ষ এই ক্রীড়া প্রশাসক। দক্ষিণ কলকাতার একটি নামি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় ভেন্টিলেশনে ছিলেন। তাকে দেখার জন্য হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন ক্রীড়া মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (Nishit Pramanick)। খবর নিয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মোহনবাগানের সঙ্গে দীর্ঘ জীবন জড়িয়ে আছে টুটু বসুর। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত মোহনবাগানের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর ২০১৮ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্বে প্রভাব ফেলেন তিনি।
২০১৮ সালে আবার সচিব নির্বাচিত হয়ে দু’বছর দায়িত্ব সামলান। এখানেই শেষ নয় ২০২০-২২ এবং ২০২২-২০২৫ দু’ফায় ফের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। গত বছর মোহনবাগানের নির্বাচনের আগে বয়সের কারণে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। মোহনবাগানের জন্য টুটু বসু নিয়েছিলেন একাধিক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। প্রথম মোহনবাগানে বিদেশি ফুটবলার হিসেবে চিমাকে সই করিয়েছেন তিনি।