বিশ্ব ক্রিকেট এখন মজে রয়েছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (IPL 2026) উত্তেজনায়। প্রতিটি ফ্রাঞ্চাইজি অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে ভক্তদের বেশ খুশি করে তুলছে। দেশ বিদেশের নানান ক্রিকেটার এই ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তবে এই আইপিএলের চার দেয়ালের বাইরে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন আফগানিস্তান দলের সাবেক তারকা পেসারের নাম। আফগানিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে শাপুর জাদরান (Shapoor Zadran) নামটি একসময় ছিল সাহস, জেদ এবং লড়াইয়ের প্রতীক। মাঠে তাঁর আগ্রাসী বোলিং এবং আবেগপূর্ণ উদযাপন তাঁকে করে তুলেছিল দর্শকদের প্রিয়। এক সময়ে, তিনিই ছিলেন আফগান দলের পেস আক্রমণের মূল ভরসা, তিনিই হয়তো বিশ্ব ক্রিকেটে প্রথম আফগান পেসার হিসাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। কিন্তু আজ সেই লড়াকু ক্রিকেটারই জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।
মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে আফগান তারকা শাপুর জাদরান

দিল্লির একটি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি জাদরান বর্তমানে সংকটজনক অবস্থায় রয়েছেন। তিনি আক্রান্ত হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস নামের এক বিরল রোগে, যা তাঁর শরীরকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জাদরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যক্ষ্মা ও ডেঙ্গির সংক্রমণ। ফলে তাঁর শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তিনি খুব একটা কথা বলতে পারছেন না এবং অধিকাংশ সময়ই ঘুমের মধ্যে থাকছেন।
Read More: IPL 2026: হার্দিকের বকুনিতে জ্বলে উঠলেন তিলক, ৪৫ বলেই জুড়ে দিলেন সেঞ্চুরি !!
তাঁর শারীরিক অবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দ্রুত ওজন হ্রাস। দ্বিতীয়বার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় তাঁর ওজন ছিল ৯৮ কেজি, যা এখন কমে ৮৪ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। এটি তাঁর শরীরের ভেতরের জটিলতারই প্রতিফলন। এর আগে তাঁর মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হয়েছিল, যা তাঁর শারীরিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে তোলে। ফলে নতুন করে এই রোগের সঙ্গে লড়াই করা তাঁর জন্য আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কঠিন সময়ে ক্রিকেট বিশ্বের অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
আফগান দলের স্তম্ভ ছিলেন শাপুর

আফগানিস্তানের অধিনায়ক রাশিদ খান (Rashid Khan) শুধু শুভেচ্ছা জানিয়েই থেমে থাকেননি, তিনি জাদরানের ভিসা প্রক্রিয়াতেও সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছেন। একইভাবে দলের সিনিয়র অলরাউন্ডার মহম্মদ নবীও তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন। আফগান ক্রিকেটের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিলেন তিনি। ২০০৯ থেকে ২০২০ পর্যন্ত তিনি দেশের হয়ে খেলেছেন এবং ৮০টি উইকেট নিয়েছেন। তাঁর পারফরম্যান্স বহু তরুণ ক্রিকেটারকে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপে তাঁর অবদান ভুলে যাওয়ার নয়। সেবারের বিশ্বকাপে একেরপর এক তারকাকে সমস্যায় ফেলে দিয়েছিলেন শাপুর। ২০১৫’এর বিশ্বকাপে তিনি ৬ ম্যাচে ১০টি উইকেট পেয়েছিলেন। তাছাড়া, ২০১২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে দুই উইকেট নিয়েছিলেন তিনি, বীরেন্দ্র শেহবাগ ও গৌতম গম্ভীরদের মতন কিংবদন্তিদের উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।