IPL 2026: আধুনিক ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর প্রভাব যত বাড়ছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে খেলোয়াড়দের পেশাদার সিদ্ধান্ত। শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা -এর (Dasun Shanaka) সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা সেই জটিলতারই একটি বড় উদাহরণ। প্রসঙ্গত, গত বছর ধরে আইপিএল (IPL) ও পিএসএল একই সাহস শুরু হওয়ার জন্য বিপাকে পড়েছে বিদেশি খেলোয়াড়রা। একাধিক ক্রিকেটাররা পিএসএল ছেড়ে আইপিএলে যোগদান করেন।
আর সেই ঘটনার জেরেই আইপিএল থেকে ব্যান হতে হলো শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকাকে। ঘটনার মূল কারণ লাহোর কালান্দার্সের সঙ্গে শানাকার চুক্তিভঙ্গ। পিএসএলের ড্রাফটে প্রায় ২৭ হাজার ডলারে তাঁকে দলে নেয় লাহোর কালান্দর্স। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তিনি নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন এবং আইপিএলের দল রাজস্থান রয়েলসে যোগ দেন। সেখানে তিনি চোট পাওয়া ইংলিশ অলরাউন্ডার স্যাম কারাণ-এর বদলি হিসেবে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ডলারের চুক্তি পান।
Read More: ০,০,০,০,০… গতি কম, উইকেট শূন্য! বুমরাহর খারাপ ফর্মে বিপর্যস্ত মুম্বাই পল্টন
IPL’এ যোগ দিতেই ব্যান শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক

এই বিশাল আর্থিক পার্থক্যই মূলত তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পিসিবির দৃষ্টিতে এটি শুধুমাত্র আর্থিক সিদ্ধান্ত বা চুক্তিভঙ্গ নয় – এটি লিগের নিয়ম ও শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে একটি বড় আঘাত। তাই তারা কঠোর শাস্তির পথ বেছে নিয়েছে। ফলস্বরূপ, তাঁকে ২০২৭ সালের পিএসএল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। যদিও পরে জানা যায়, শানাকা ক্ষমা চেয়ে আবেদন করার পর তাঁর শাস্তির মেয়াদ কিছুটা হ্রাস করা হয়েছে। নিজের বিবৃতিতে শানাকা বলেন, তিনি তাঁর সিদ্ধান্তের জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং পিএসএলের মর্যাদা সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন।
মন্তব্য করে শানাকা বলেন, “আমার কর্মকাণ্ডে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তা আমি অনুধাবন করতে পারছি। লাহোর কালান্দার্সের ভক্তদের আশাহত করার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত।” এই বিতর্কের মাঝেই উঠে এসেছে ব্লেজিং মুজারাবাণী-এর প্রসঙ্গ। তিনিও ইসলামাবাদ ইউনাইটেড-এর সঙ্গে চুক্তি ভেঙে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে যোগ দেন এবং দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ হন। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বশ-এর ঘটনাও এই তালিকায় রয়েছে। গত মৌসুমে তিনিও পিএসএল ছেড়ে আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দলে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁকেও ব্যান করা হয়েছিল পিএসএল থেকে। আইপিএল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক এবং প্রতিযোগিতামূলক টি-টোয়েন্টি লিগ, যেখানে খেলতে পারা প্রায় প্রতিটি ক্রিকেটারের জন্যই বড় সুযোগ। যে কারণে খেলোয়াড়রা আইপিএলকেই বাঁকি লীগ গুলির থেকে বেশি পরিমাণে বেছে নেয়।