চলতি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (IPL 2026) মঞ্চ বেশ জমে উঠেছে। চলতি মৌসুমে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছে পাঞ্জাব ও আরসিবি দল। আর এই আইপিএলের মাঝেই অবসরের ঘটনা সামনে এসেছে। এবার অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়। এবার ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ালেন সাবেক ইংলিশ অলরাউন্ডার সমিত প্যাটেল (Samit Patel)। সামিত প্যাটেল ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন ক্রিকেটার। তিনি ১৯৮৪ সালের ৩০ নভেম্বর ইংল্যান্ডের লেস্টারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা-মা রোহিত ও সেজল প্যাটেল, দুজনেই গুজরাটি পরিবার থেকে উঠে আসা। যদিও তিনি ইংল্যান্ডে জন্মেছেন ও বড় হয়েছেন, তবুও তাঁর পারিবারিক শিকড় রয়েছে ভারতের গুজরাটের ভাবনগরে।
সমিত প্যাটেল একজন ব্রিটিশ-ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত, তবে ইংল্যান্ড দলের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন তিনি এবং দীর্ঘদিন ধরেই ইংল্যান্ডের হয়ে খেলে এসেছন তিনি। তবে বর্তমান সময়ে তিনি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাজি লিগে খেলে থাকেন তিনি। ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা টি ২০ ব্লাস্ট এবার শুরু হচ্ছে একেবারে নতুন প্রেক্ষাপটে। ২০০৩ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতি মরসুমেই এই দুই ক্রিকেটার ছিলেন নিয়মিত মুখ। তবে এবার ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে এক বছরের জন্য নির্বাচিত করেছে। এই শাস্তির কারণ হলো জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড লেজেন্ডস প্রো টি২০’ লিগে অংশগ্রহণ। এই প্রতিযোগিতাটি কোনও স্বীকৃত ক্রিকেট বোর্ডের অধীনে নয়। আর সেখানেই খেলতে যাওয়ার জন্যই সমিত প্যাটেল ও সিডল কে নির্বাসিত করেছে বোর্ড।
Read More: AAP ছেড়ে পাল্টি খেয়ে BJP’তে হরভজন সিং, ভারতীয় রাজনীতিতে চমক দিলেন তারকা !!
অবসর ঘোষণা দাপুটে অলরাউন্ডারের

ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী কোনও ক্রিকেটার যদি বোর্ডের অনুমোদনহীন বা স্বীকৃতির বাইরে থাকা লিগে অংশ নেন, তবে তাঁকে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে। আর সেই নিয়মই কার্যকর হয়েছে এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সাথে। টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে নটিংহ্যামশায়ারের জন্য এটি বড় ধাক্কা। কারণ ৪১ বছর বয়সী পিটার সিডল এই দলের গুরুত্বপূর্ণ বোলার ছিলেন। কিন্তু নির্বাসনের কারণে টিম ম্যানেজমেন্ট ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে তারা বিকল্প খেলোয়ার খুঁজছে। একইসাথে ইংলিশ ঘরোয়া ক্রিকেটে এক যুগের অবসান ঘটল সমিত প্যাটেলের। নটিংহ্যামশায়ারের অন্যতম সফল অলরাউন্ডার ঘোষণা করলেন তাঁর দীর্ঘ ২৪ বছরের কাউন্টি ক্যারিয়ারের ইতি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ট্রেন্ট ব্রিজে যাত্রা শুরু হয় তাঁর। অল্প বয়সেই প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে দ্রুতই সিনিয়র দলে জায়গা করে নেন।
নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে তাঁর পরিসংখ্যানই বলে দেয়, তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। ২১,০০০-এর বেশি রান এবং ৭০০-রও বেশি উইকেট -এই সংখ্যা শুধু বড় নয়, অসাধারণ। একজন অলরাউন্ডারের পক্ষে এই ধরনের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স সত্যিই বিরল। তাঁর ক্যারিয়ারে দুইবার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ, দুইবার টি২০ ব্লাস্ট এবং দুইবার লিস্ট এ ট্রফি জিতেছেন। প্রতিটি সাফল্যের পিছনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। প্রথম ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৫,০০০ রান ও ২৫০ উইকেটের ডাবল অর্জন করেন। তবে অবসর নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমি ক্রিকেট ছাড়ছি না, শুধু ঘরোয়া ক্যারিয়ারের ইতি টানছি।” তিনি ভবিষ্যতে কোচিং, মেন্টরিং এবং ধারাভাষ্যে যুক্ত হতে চান।