আইপিএল ২০২৬-এর রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে দুর্দান্ত লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। চার উইকেট হাতে রেখেই তারা পরাজিত করল রাজস্থান রয়্যালসকে। প্রথমে ব্যাট করে রাজস্থান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান তোলে, যা এই ফরম্যাটে খুব বড় সংগ্রহ নয়। রাজস্থানের ইনিংসের শুরুটা ছিল বেশ ইতিবাচক। যশস্বী জয়সওয়াল সাবলীল ব্যাটিং করে ৩৯ রান করেন, আর বৈভব সূর্যবংশী আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ৪৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। কিন্তু ভালো সূচনার পরও মাঝের ওভারে একের পর এক উইকেট পড়ায় বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় দলটি।
অনবদ্য জয় ছিনিয়ে নিলো KKR

কলকাতার হয়ে বরুণ চক্রবর্তী ও কার্তিক ত্যাগী তিনটি করে উইকেট নেন, পাশাপাশি সুনীল নারায়ণও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পান। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় কলকাতা। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে দলটি বিপাকে পড়ে। মাঝের দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ৭০ রানের মধ্যেই অর্ধেক দল প্যাভিলিয়নে ফিরে যায়। তবে সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রিঙ্কু সিং। ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করে ৩৪ বলে অপরাজিত ৫৩ রান করেন তিনি। শেষদিকে অনুকূল রায় ১৬ বলে ২৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত ২ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কলকাতা নাইট রাইডার্স, আর এই জয় দলকে নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দেয়।
Read More: বাদ সূর্যকুমার যাদব, IPL’এর মধ্যেই ভারতীয় টি২০ দলের অধিনায়ক হচ্ছেন শ্রেয়স আইয়ার !!
KKR-কে ম্যাচ জেতালেন রিঙ্কু সিং

ম্যাচ শেষে মন্তব্য করে রিঙ্কু সিং বলেছেন, “মাঝে মাঝে এমনটা হয় যখন কিছু জিনিস আপনার পক্ষে যায় না, তাই আপনি সেই তীব্রতাটা অনুভব করেন। কিন্তু এমনটা ছিল না যে আমি আমার শটগুলো খেলতে দ্বিধা করছিলাম বা অনিশ্চিত ছিলাম। আমার মানসিকতা ছিল খেলাটাকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া, কারণ আমি কোচ এবং আমার ব্যাটিং পার্টনারের সাথে কথা বলেছিলাম। যেহেতু ম্যাচটা একটা কঠিন পরিস্থিতিতে ছিল, তাই খেলাটাকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। (ইনিংসের শুরুতে জীবনদান পাওয়ার পর) স্যার, মাঝে মাঝে এমনটা হয়। সেই মুহূর্তে মন ঠিকমতো কাজ করে না এবং আপনি এই ধরনের শট খেলে ফেলেন। কিন্তু ভাগ্যক্রমে, ভাগ্য আমার পক্ষে ছিল এবং আমরা শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জিতেছিলাম। হ্যাঁ স্যার, আমার মনেও সেটাই ছিল। আমি বেশ কয়েকটি ইনিংস খেলেছিলাম এবং একটি বড় ইনিংসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এটা আমার জন্য খুব ভালো একটি ইনিংস ছিল এবং আমার আত্মবিশ্বাসের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার জন্য কোনো নির্দিষ্ট পজিশন নেই। আমি পাঁচ নম্বরে, নিচের দিকে, বা এমনকি চার নম্বরেও ব্যাট করতে পারি। দলের যেখানেই আমাকে প্রয়োজন, আমি সেই পজিশনে ব্যাট করার জন্য প্রস্তুত। এটা আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে কারণ এটা এই মৌসুমে আমাদের প্রথম জয়। এখান থেকে আমরা এই গতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।”