সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বুকে নতুন সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। আর সরকার বদল হতেই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মনোজ তিওয়ারি (Manoj Tiwary)। রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথে প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও একহাত নিয়ে শিরোনামে উঠে এসেছেন মনোজ। মনোজ ভারতীয় দল ও বাংলার হয়ে লম্বা সময় ধরে ক্রিকেট খেলে এসেছেন। রাজনীতি ছেড়ে তাঁর লক্ষ এখন বাংলার প্রধান কোচ হওয়ার। তবে, মনোজের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী সুস্মিতা রায়। সুস্মিতা নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে গোপনে রাখেন তবুও সম্প্রতি তিনিও সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন।
খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন মনোজ তিওয়ারি

তাদের গল্পের শুরুটা সিনেমার থেকে কিছুটা কম নয়। ২০০৬ সালে তাদের প্রথম দেখা হয় তারপর দীর্ঘ ছয় বছর প্রেম করার পর অবশেষে ২০১৩ সালে সেই প্রেমের পরিণতি পায়। এই দীর্ঘ সময়ে তারা একে অপরের পাশে থেকেছেন সবসময়, যা তাদের সম্পর্ককে শক্ত করে রেখেছে। সুশ্মিতা রায় মূলত কলকাতার বাসিন্দা এবং একজন বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই সুশ্মিতা শান্ত, মার্জিত ও পরিবারমুখী স্বভাবের ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর আগ্রহ ছিল। তবে তিনি সবসময় মিডিয়ার আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন এবং ব্যক্তিগত জীবন খুব গোপন রাখেন।
মনোজ তিওয়ারির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এক কমন বন্ধুর মাধ্যমে। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক ভালোবাসায় পরিণত হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর সম্পর্কে থাকার পর ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই কলকাতায় তাঁদের বিয়ে হয়। মনোজ তিওয়ারির ক্রিকেট জীবনের শুরু থেকেই সুশ্মিতা তাঁর সবচেয়ে বড় সমর্থক ছিলেন। কঠিন সময়ে তিনি মনোজকে মানসিকভাবে শক্তি জুগিয়েছেন। মনোজ নিজেও বহুবার সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর জীবনের সাফল্যের পেছনে স্ত্রীর অবদান অনেক বড়।
মনোজ-সুস্মিতার লাভ স্টোরি এখন ভাইরাল

এই দম্পতির একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, যার নাম যুবান তিওয়ারি। ছেলের জন্মের পর তাঁদের পরিবার আরও আনন্দময় হয়ে ওঠে। মনোজ ও সুশ্মিতা প্রায়ই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান এবং সুখী দাম্পত্য জীবন উপভোগ করছেন। যদিও সুশ্মিতা সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব বেশি সক্রিয় নন, তবুও মাঝে মাঝে পরিবারের কিছু সুন্দর মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেন।

২০২০ সালে মনোজ তিওয়ারিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা হলে সুশ্মিতা প্রকাশ্যে তাঁর স্বামীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও পারিবারিক বন্ধনের কারণে এই জুটিকে অনেকেই “ফেয়ারিটেল লাভ স্টোরি” বলেও অভিহিত করেন। সুস্মিতা ব্যক্তিত্বের আরেকটি বড় দিক হলো ভ্রমন প্রিয়তা তিনি তার স্বামীর সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। সম্প্রতি গ্রীস ভ্রমণের কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় সুস্মিতা বেশ জনপ্রিয়। তিনি তার প্রোফাইল গোপন রাখতে পছন্দ করলেও তার অনুসারীর সংখ্যা কিন্তু ৪০ হাজারেরও বেশি।
Read Also; “একটা ‘ললিপপ’ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল…” প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে বেফাঁস বয়ান মনোজ তিওয়ারির !!
