আইপিএল মানেই আবেগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং কখনো কখনো বিতর্ক উঠে আসে। ২০২৬ আইপিএল মৌসুমের গ্রুপ পর্বের ৭০ টি ম্যাচ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি ফাইনালের। এই ফাইনালে উত্তেজনার মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে টিম ইন্ডিয়ার কিংবদন্তি বিরাট কোহলি (Virat Kohli) এবং ট্রাভিস হেডের (Travis Head) দ্বন্দ্ব। সম্প্রতি শেষ হওয়া সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা।
দুই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বিরাট কোহলি এবং ট্রাভিস হেড মাঝেমধ্যেই একে অপরের দিকে ইঙ্গিত, এবং মন্তব্য করছিলেন যা প্রতিযোগিতারই একটা অংশ। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় প্রতিযোগিতার শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। যার কেন্দ্র বিন্দুতে উঠে আসেন জেসিকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় ম্যাচ শেষে করমর্দনের সময় কোহলি অন্য সমস্ত খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করলেও হেডকে তিনি এড়িয়ে যান।
Read More: ফিল্ডিং করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু রাহুলের সতীর্থের, শোকের ছায়া ক্রিকেট মহলে !!
কোহলির সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন হেড

আর এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। এই পরিপক্ষিতে হেড পত্নী জেসিকাকে সমাজ মাধ্যমে বেশ কটূক্তি ও নোংরা কথা শুনতে হয়েছে। এমনকি, তাকে এবং তার পরিবারকে লক্ষ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় ট্রোলিং এবং হেনস্থা। তাকে এবং তার পরিবার বন্ধুজন সবাইকেই অশালীন বার্তা পাঠানো হচ্ছে। ২০২৩ বিশ্বকাপের পরেও এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। তিনি বলেন, “২০২৩ সালের বিশ্বকাপের পর যে হয়রানি হতে হয়েছিল এটা যেন তারই পুনরাবৃত্তি। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি আমার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর মেসেজ।“
আসলে, ২০২৩’এর ওডিআই বিশ্বকাপ ফাইনালে হেড ছিলেন ভারতের ত্রাস। তাঁর দাপুটে শতরানে কোটি কোটি ভারতীয় ভক্তের হৃদয় ভেঙেছিল। সেবারের মতন আবারও কোহলির সঙ্গে তাঁর বিবাদের পর থেকেই হেড পত্নীকে মানসিক অস্বস্তিতে দেখা গিয়েছে। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এই মুহূর্তে সমস্ত খেলাধুলার ক্ষেত্রে এই মানসিক স্বাস্থ্য দৃষ্টিভঙ্গি, এবং আমরা একে অপরের সঙ্গে যেভাবে কথা বলি তা নিয়ে একটা আলোচনা চলছে। আবেগ সবসময়ই খেলাধুলার অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু এর পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে যে খেলাধুলার পিছনে সাধারণ মানুষ এবং তার পরিবার রয়েছে।” অন্যদিকে প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান বিরাট কোহলির পক্ষ নিয়ে বলেছেন যে, এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে খেলোয়ারদের মধ্যে এরকম সংঘাতের ঘটনা খুবই স্বাভাবিক।