মেসি কান্ডকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ক্রমশই বড় আকার নিচ্ছে। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। অভিযোগকারী শতদ্রু দত্ত একাধিক অভিযোগ এনেছেন অরূপ বিশ্বাসের নামে। টিকিট কালোবাজারি থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, নিরাপত্তা গাফিলতি, প্রতারণা সহ একাধিক অভিযোগ এনেছেন তার বিরুদ্ধে। মেসি ইভেন্টকে কেন্দ্র করে একাধিক অনিয়ম করা হয়েছে। তার মধ্যে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আলোচিত। এই ধরনের ইভেন্টে টিকিটের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ২২ হাজার টিকিট কালোবাজারি করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তা সত্যিই নজরবিহীন। অন্যদিকে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আরো একটি অভিযোগ হল তিনি প্রভাব খাটিয়ে মেসির কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন এবং বিনা অনুমতিতে তার গায়ে হাত দিয়েছিলেন। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর ঠিক তার আগেই অরূপের অসুস্থতার খবর সামনে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে অরূপ বিশ্বাস থানায় হাজিরা দেওয়ার জন্য দু সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। আইনত এই ধরনের আবেদন অস্বাভাবিক নয়, যদি কোন ব্যক্তি শরীর অসুস্থতার জন্য সময় চায় তাহলে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু আসল প্রশ্ন হল তার অসুস্থতা কি সত্যিই আকস্মিক। নাকি অন্য কিছু কারণ?
Read More: IPL’এ ঝড় তুলে জাতীয় দলে এন্ট্রি নিচ্ছেন বৈভব সূর্যবংশী, দেশের জার্সিতে মাতাবেন বিশ্ব মঞ্চ !!
মেসি কান্ডে হাজিরা দিতে হবে অরূপ বিশ্বাসকে

এই পরিস্থিতিতে অরূপ বিশ্বাস আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন যা বারাসাত আদালত তা খারিজ করে দেয়। এর ফলে তার আইনি সুরক্ষা অনেকটাই কমে যায়। ফলে তিনি যেকোনো সময়ই গ্রেফতার হতে পারেন। আর এই সময় অসুস্থতার নামে সময় চাওয়াকে অনেকেই অতি নাটকীয়তা বলে মনে করছেন। প্রসঙ্গত, তাঁকে ৫ জুন দুপুর ১২টার হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আরও ২ সপ্তাহ সময় চেয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী।
এই বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে পোস্ট করেছেন শতদ্রু দত্ত। শতদ্রু দত্তের প্রতিক্রিয়া এই বিতর্ককে আরো উসকে দিয়েছে। তিনি বলেছেন “আইনের হাত থেকে পালানোর পথ নেই। মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখিয়ে সময় কেনা যায়, কিন্তু বিচার থেকে পালানো যায় না।“