অর্জুন তেন্ডুলকর

অর্জুন তেন্ডুলকর। চেনেন না এমন লোক বোধহয় নেই। নামের পরে পদবীটাই চেনানোর জন্য় যথেষ্ট। ক্রিকেটের ইশ্বর শচীন তেন্ডুলকরের পুত্র। বাবার মতো ডান-হাতি নন, ব্য়াটিং করেন বাঁ-হাতে। তাঁর মতো বড় ক্রিকেটার হতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলবে। কিন্তু, এর মধ্য়েই অর্জুনকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে, অনেকদিন আগে থেকেই। শচীনের ছেলে হওয়ার সুবাদে মিডিয়ার নজর যেন আরও বেশি করে খুঁজে বেড়ায়।
ঘরোয়া টুর্নামেন্ট হোক কিংবা নেট বা ইংল্য়ান্ডে ক্লাব ক্রিকেট, অর্জুনের ক্রিকেট দক্ষতা নজরে পড়েছে অনেকের। ব্য়াটিং দেখে অনেকেই গুনমুগ্ধ। তবে, শচীন যেমন সব রকম বল করতে পারতেন, অর্জুন অবশ্য় সেদিকে ঝোঁকেননি। উচ্চতা কম হওয়ার জন্য় শচীন ফাস্ট বোলার হতে পারেননি। বাবার সেই অপূর্ণ ইচ্ছে ছেলে স্বার্থক করেছেন। সতেরো বছর বয়স হওয়া সত্ত্বেও পেস বোলিংটা বেশ জোরে করেন ইশ্বরপুত্র।
এই ক’দিন আগেই ইংল্য়ান্ডের ক্রিকেটার জনি বেয়ারস্টোকে প্রায় আহত করে ফেলেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের আগে লর্ডসে নেট প্র্য়াক্টিসের সময়ের ঘটনা। অর্জুনের হাত থেকে বেরিয়ে আসা প্রথম ডেলিভারিটাই আছড়ে পড়ে বেয়ারস্টো’র বাঁ-পায়ের বুটের ডগার ওপর। সজোরে এসে লাগার পর খোঁড়তে খোঁড়াতে নেট ছাড়েন ইংল্য়ান্ডের উইকেটকিপার-ব্য়াটসম্য়ানটিকে। চোট না লাগলেও ব্য়থা কমাতে কম্প্রেশন ইউনিট ব্য়বহার করতে হয়েছিল।
ইংল্য়ান্ডে মহিলা বিশ্বকাপ চলার সময়ও সংবাদ মাধ্য়মের নজরে আসেন অর্জুন। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নেটে মহিলা ক্রিকেটারদের নেটে বল করেছিলেন শচীনপুত্র।
তেন্ডুলকর নামের ছায়া থেকে বেরিয়ে ক্রিকেটার অর্জুন হিসেবে কতটা সফল হতে পারেন শচীনপুত্র, এখন এই অপেক্ষায় ক্রিকেট সমালোচকরা। অজি বোলিং লেজেন্ড গ্লেন ম্য়াকগ্র্য়াথও বলেছেন, যুবা তেন্ডুলকর কেমন বল করেন, তাঁর দেখার ইচ্ছে।
গতসপ্তাহে সংবাদ মাধ্য়মকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্য়াকগ্রা বলেন, ”শচীনের ছেলে? ওর যেন কত বছর হলো (১৭ বছর), আমার ছেলের বয়সী। আমি ওকে এখনও বল করতে দেখিনি। তবে, ও কেমন বল করে, দেখার ইচ্ছে আছে। মনে হয়, ও ভালোই বল করে। যখন এমআরএফ (পেস অ্য়াকেডেমি) চালু হয়েছিল, সবার প্রথমে যারা এসেছিল, তার মধ্য়ে শচীন ছিল।”
ম্য়াকগ্রা আরও বলেন, ”শচীন ফাস্ট বোলার হতে চেয়েছিল। শচীনের ছেলে কি ওর চেয়ে লম্বা! (সাংবাদিকদের কাছে তো তাই শুনেছি) লম্বা হলে ফাস্ট বোলার হতে সুবিধা হয়। কিন্তু, একটা ব্য়াপার দেখে খুব ভালো লাগে। ওদের দু’জনেরই ক্রিকেটের জন্য ভালোবাসা আছে। শচীন সবসময়ই ফাস্ট বোলার হতে চেয়েছিল।”
মহিলা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে লর্ডসের নেটে মহিলা ক্রিকেটারদের একনাগাড়ে ১৩০ কিলোমিটার বেগে বল করে গিয়েছিলেন অর্জুন। সতেরো বছরের একটা কিশোরের হাত থেকে এত জোরে বল বেরিয়ে আসতে দেখে অনেকেই বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। অবাক হয়ে যান মহিলা ক্রিকেটাররাও। এখানে বলে রাখা ভালো, ক্রিকেট গড’কে তাঁর কেরিয়ারের শুরুতে বিষ্ময় বালক বলা হতো।

 

 

  • SHARE
    A sports enthusiast and a critic. Journalism is all about being unbiased to create positive influence from negative angle.

    আরও পড়ুন

    তৃতীয় টি২০তে এই তারকার খেলা নিয়ে সন্দেহ

    পিটিআইয়ের একটি রিপোর্টের মোতাবিক তৃতীয় এবং ফাইনাল ওয়ান ডেতে জসপ্রীত বুমরাহের অংশ নেওয়া এখনও সন্দেহজন অবস্থায় রয়েছে।...

    বিশ্বকাপে ভারতীয় স্পিন বিভাগে কারা খেলবেন মুখ খুলনে নির্বাচক প্রধান

    বিশ্বকাপে ভারতীয় স্পিন বিভাগে কারা খেলবেন মুখ খুলনে নির্বাচক প্রধান
    ২০১৯ বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র দেড় বছর। তার আগে গত ২ বছর ধরেই দুরন্ত ফর্মে রয়েছে ভারতীয়...

    অনুষ্কাকে যাবতীয় কৃতিত্ব দিয়ে অবসর নিয়ে মুখ খুললেন কোহলি

    অনুষ্কাকে যাবতীয় কৃতিত্ব দিয়ে অবসর নিয়ে মুখ খুললেন কোহলি
    তার ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই কারও। সকলেই একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনি ব্যাটিংয়ের জিনিয়াস। তামাম...

    প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত একদিনের সিরিজে যে যে রেকর্ড গড়লেন ভারত অধিনায়ক বিরাট

    তার শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের সকলেই। বিশ্বের সর্বকালের সেরা একদিনের ক্রিকেটার হিসেবে তাকে মেনেও নিয়েছেন সকলে।...

    আইপিএলের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না এই দুই অস্ট্রেলীয়

    আর মাত্র দেড় মাস বাকি আইপিএল শুরুর। এই মুহুর্তে স্ট্রাটেজি বানাতে শুরু করে দিয়েছে সমস্ত ফ্রেঞ্চাইজিই। কিন্তু...