১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতবর্ষ। সুবিশাল এই দেশের প্রতিটা কোণায় লুকিয়ে রয়েছে ক্রিকেটপ্রতিভা। জাতীয় দলে জায়গা মাত্র গুটিকয়েক। এই ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে থেকে সেরা এগারো বা পনেরো জনকে বেছে নেওয়ার কঠিন কাজটা করতে হয় দেশের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা BCCI’কে। বিপুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ক্লাব স্তর বা রাজ্য স্তরে ক্রিকেট খেলাই যেখানে চূড়ান্ত কঠিন, সেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটের সবক’টি ধাপ পেরিয়ে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর রাস্তাটি খুব সহজ নয়।
সেই কন্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে অনেককেই দেখা গেছে। তবে তাঁরা সকলেই কোথাও না কোথাও সৌভাগ্যবান। সঠিক সময় সঠিক সুযোগ পেয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মানচিত্রে। সকলের অবশ্য এই সৌভাগ্য হয় না। প্রতিভা থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী হয় না কেরিয়ার। উপযুক্ত সুযোগের অভাবে তারকা হওয়ার মালমশলা থাকা সত্ত্বেও থেকে যেতে হয় পিছনের সারিতেই।
IPL 2023 | Australia Tour Of India 2023 | Cricket News Today | Fantasy Cricket | ICC T20 World Cup 2024 | ICC ODI World Cup 2023 | ICC Test Championship Final | IND vs AUS | WPL 2023 | Asia Cup 2023
আবার কিছু খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে উলটো চিত্রও দেখা যায়। ভ
IPL 2023 | CSK Squad | KKR Squad | MI Squad | RCB Squad | SRH Squad | RR Squad | GT Squad | LSG Squad | DC Squad | PBKS Squad | IPL All Team Squad | WPL 2023 | Asia Cup 2023
বিনোদ কাম্বলি-
প্রতিবভাবান বাঁ-হাতি ব্যাটার হিসেবে উথান বিনোদ কাম্বলির (Vinod Kambli), কিন্তু তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার মাত্র ১৭টি টেস্ট ম্যাচ এবং ১০৪টি ওয়ানডে খেলার পরই শেষ হয়ে যায়। স্কুল ক্রিকেটে বিনোদ কাম্বলি ও শচীন তেন্ডুলকারের আবির্ভাব হয় একই সঙ্গে। সারদাশ্রম স্কুলের হয়ে ৬৬৪ রানের জুটি গড়ে অল্প বয়সেই খবরের শিরোনামে উঠে আসেন তাঁরা। এরপর দুজনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ার অবশ্য সম্পূর্ণ দুই আলাদা দিকে বাঁক নেয়। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে, ভারত শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিলো। কলকাতায় চলমান সেমিফাইনালে কাম্বলি যখন ব্যাটিং করছিলেন, তখন ভারতের পরাজয় দেখে মাঠে গ্যালারিতে উপবিষ্ট দর্শকেরা বোতল ও অন্যান্য জিনিস ছুঁড়তে শুরু করে। নিরাপত্তার খাতিরে সাজঘরে ফেরে শ্রীলঙ্কা দল। লঙ্কাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং কাম্বলি ইডেন গার্ডেন্সের মাঠ থেকে চোখের জল ফেলতে ফেলতে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে শেষ টেস্ট খেলেন তিনি। এরপর দলে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
এম এস কে প্রসাদ-
মান্নভা শ্রী কান্থ প্রসাদ বা এম এস কে প্রসাদও (MSK Prasad) ভারতীয় দলের হয়ে কিছু ম্যাচ খেলার পর হারিয়ে গিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দুনিয়া থেকে। উইকেটরক্ষক ব্যাটার হিসেবে ভারতীয় দলে জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মোহালির মাঠে প্রথম টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। ব্যাট হাতে বা উইকেটের পিছনে পারফর্ম্যান্স আহামরি না হলেও তাঁকে বেশ কিছু ম্যাচে সুযোগ দিয়ে দেখেছিলো ‘টিম ইন্ডিয়া।’ নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হন প্রসাদ। দেশের হিয়ে ৬টি টেস্টে ১১.৭৬ ব্যাটিং গড়ে ১০৬ রান করেছেন তিনি। নিয়েছেন ১৫টি ক্যাচ। একদিনের ক্রিকেটে ১৭টি ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে একটি অর্ধশতক-সহ ১৩১ রান করেন তিনি। নিয়েছেন ১৪টি ক্যাচ এবং ৭টি স্টাম্পিং’ও করেছেন তিনি। এরপর ভারতীয় দলের মুখ্য নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন বেশ কিছুদিন। বিজয় শঙ্কর সম্পর্কে তাঁর করা ‘থ্রি ডি প্লেয়ার’ মন্তব্যটি বেশ ভাইরাল হয়েছিলো। এই মন্তব্যের জন্য সমাজমাধ্যমের কটাক্ষও শুনতে হয় প্রসাদকে।
অতুল বেদাদে-
প্রাক্তন ভারতীয় বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান অতুল বেদাদে (Atul Bedade) ছক্কা মারার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি।। তবে অতুল বেদাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ার বেশিদিন স্থায়ী হ্যনি। অতুল বেদাদে ভারতের জার্সিতে ১৩টি ওয়ানডেতে মাত্র ১৫৮ রান করতে পেরেছিলেন। ধারাবাহিক খারাপ পারফর্ম্যান্সের জন তিনি দল থেকে বাদ পড়েন। অতুল বেদাদে এই ১৩ ম্যাচের একটিতেও হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। এরপর আর ‘টিম ইন্ডিয়া’তে ফিরতে পারেননি তিনি। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে বরোদার হয়ে তিনি মোট ৬৪টি ম্যাচ খেলেছেন এবং এই সময়ে অতুল বেদাদে ৩১৩৬ রান করেছেন।
ভিআরভি সিং-
ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে ভারতীয় দলে সুযোগ পান ভিআরভি সিং (VRV Singh)। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার রেকর্ড খুব একটা ভালো ছিল না। কিন্তু তার পরেও ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার হওয়ায় দলে খেলার সুযোগ পান। যা তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। ভিআরভি সিং ভারতীয় দলের হয়ে ৫টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। যেখানে তিনি ব্যাট হাতে মাত্র ১১.৭৫ গড়ে ৪৭ রান করেন। টেস্ট ক্রিকেটে বল হাতে তিনি ৫৩.৩৮ গড়ে নিয়েছেন মাত্র ৮ উইকেট। ভারতের হয়ে দুটি একদিনের ম্যাচও খেলেছেন তিনি। সেই ২ ওয়ানডেতে একটিও উইকেট পাননি এবং ব্যাট হাতে মাত্র ৮ গড়ে ৮ রান করেছেন। আইপিএল খেলার সুযোগও এসেছিলো তাঁর কাছে, কিন্তু সেখানেও তিনি ব্যাট এবং বল উভয় ক্ষেত্রেই ভালো পারফর্ম করতে ব্যর্থ হন। যার কারণে দীর্ঘস্থায়ী হয় নি তাঁর কেরিয়ার। জাতীয় দলের রেডার থেকে হারিয়ে যান তিনি।
সুদীপ ত্যাগি-
ঘরোয়া ক্রিকেটে উত্তরপ্রদেশের হয়ে প্রথম ম্যাচেই দশ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন সুদীপ ত্যাগি (Sudeep Tyagi)। ডান হাতি পেসারকে নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছিলো দেশের ক্রিকেটমহলে। নিজের অভিষেক মরসুমে ৪১ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তিনি। আইপিএলে জায়গা করে নিয়েছিলেন চেন্নাই সুপার কিংস দলে। চেন্নাই দলের অধিনায়ক ধোনির নজরে পড়ে যান তিনি। জাতীয় দলের হয় ২০০৯ সালে প্রথম মাঠে নেমেছিলেন সুদীপ ত্যাগি। সুযোগ পেলেও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছিলেন সুদীপ। ৪টি একদিনের ম্যাচে মাত্র ৩টি উইকেট পান তিনি। বোলিং গড় ৪৮। একটি টি-২০ ম্যাচেও সুদীপ ত্যাগিকে জায়গা দেওয়া হয়েছিলো। ২১ রান খরচ করলেও কোনো উইকেট পান নি তিনি। ২০০৯ সালে অভিষেক হলেও ২০১০-এ ‘মেন ইন ব্লু’র দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় তাঁর সামনে।
মনপ্রীত গোনি-
পাঞ্জাবের মনপ্রীত গোনিকেও (Manpreet Gony) ভারতের পেস ডিপার্টমেন্টের ভবিষ্যৎ হিসেবে মনে করা হচ্ছিলো এক সময়। আইপিএলের গোড়ার দিকে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনিও। সেখান থেকেই সরাসরি জাতীয় দলে জায়গা হয় তাঁর। কিন্তু ‘টিম ইন্ডিয়া’তে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন নি তিনি। মাত্র ২টি একদিনের ম্যাচ খেলেন জাতীয় দলের জার্সিতে। নিয়েছেন দুটি উইকেট। তবে তাঁর বোলিং গড় ৩৮। ক্রিকেটের অন্য কোনো ফর্ম্যাটে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ হয় নি তাঁর। আইপিএলেও দীর্ঘ হয় নি তাঁর কেরিয়ার। ৪৪ ম্যাচে ৩৭ উইকেট পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন তিনি।
Virat Kohli | Rohit Sharma | KL Rahul | Ishan Kishan | Hardik Pandya | Rishabh Pant | Kuldeep Yadav | Sourav Ganguly | Ravindra Jadeja | Shreyas Iyer | Yuzvendra Chahal | Smriti Mandhana | Harmanpreet Kaur