ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিসিআই (BCCI) আর তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় পড়বে না। কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের সাম্প্রতিক রায়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিসিসিআইকে ‘পাবলিক অথরিটি’ বা সরকারি সংস্থা হিসেবে ধরা যাবে না। ফলে ভবিষ্যতে আরটিআই (RTI) আইনের মাধ্যমে বোর্ডের কাছে সরাসরি তথ্য চাওয়া কঠিন হয়ে গেল। তথ্য কমিশনার পি আর রমেশ (PR Ramesh) এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এর ফলে ২০১৮ সালের সেই গুরুত্বপূর্ণ রায় কার্যত বাতিল হয়ে গেল, যেখানে তৎকালীন তথ্য কমিশনার এম শ্রীধর আচার্যুলু বিসিসিআইকে আরটিআই আইনের আওতায় আনার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তখন বোর্ডকে তথ্য আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করে বিসিসিআই (BCCI)। মাদ্রাজ হাইকোর্ট বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ফের কমিশনের কাছে পাঠায়।
কোনো রকম তথ্য প্রকাশ্যে রাজি নয় BCCI

নতুন রায়ে কমিশন জানিয়েছে, আরটিআই আইনের ২(এইচ) ধারার যে শর্ত রয়েছে, বিসিসিআই তা পূরণ করে না। বোর্ডটি মূলত তামিলনাড়ু সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীনে নথিভুক্ত একটি স্বশাসিত সংস্থা। এটি সংসদ বা সংবিধানের মাধ্যমে তৈরি নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিসিসিআইয়ের উপর সরকারের কোনও গভীর বা সর্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণ নেই। বোর্ড নিজস্ব আয়ের উপর নির্ভরশীল। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন, টিকিট বিক্রি এবং আইপিএল (IPL) থেকে বিপুল অর্থ উপার্জন করে তারা। তাই কর ছাড় বা কিছু প্রশাসনিক সুবিধাকে সরকারি আর্থিক সহায়তা হিসেবে ধরা যায় না বলেই মত কমিশনের।
Read More: IPL’এ কোহলিকে সামনে রেখে টিকিটের কালোবাজারি, প্রতারণা চক্রের গ্রেফতারিতে চাঞ্চল্য !!
মস্ত বড় সিদ্ধান্ত নিলো BCCI!

রায়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পুরনো মামলার উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘জি টেলিফিল্মস বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ এবং ‘থালাপ্পালাম সার্ভিস কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক বনাম কেরল সরকার’ মামলার পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, অতীতে স্বচ্ছতার প্রশ্নে আদালত ক্রিকেট প্রশাসন নিয়ে মন্তব্য করলেও BCCI’কে কখনও সরাসরি সরকারি সংস্থা হিসেবে ঘোষণা করেনি।
কমিশনের মতে, বর্তমান আইনি কাঠামোয় বিসিসিআইকে (BCCI) আরটিআইয়ের আওতায় আনা সম্ভব নয়। এর জন্য আলাদা আইন সংশোধন বা সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি কমিশন এটাও জানিয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ালেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না। বরং জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।