পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আজ এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। গত ১৫ মার্চ নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারির পর ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগণনা, আর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার হয়ে যাবে আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যের ক্ষমতা কার হাতে যাচ্ছে। এবার সেই নিয়েই মুখ খুললেন সৌরভ গাঙ্গুলির সতীর্থ। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল – সবার নজর এখন এই ফলাফলের দিকে। এবার মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২৯৩টির গণনা হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বাতিল হওয়ায় সেখানে ২১ মে পুনর্নির্বাচন এবং ২৪ মে গণনা হবে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাও কমে ১৪৭-এ দাঁড়িয়েছে। আগে যেখানে ১৪৮টি আসন দরকার ছিল, এখন এক আসন কমেই সরকার গঠন সম্ভব।
প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল দক্ষিণবঙ্গের ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে ভোট পড়ে। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ লক্ষ বেশি ভোটার অংশ নিয়েছেন, ফলে ভোটদানের হারও রেকর্ড ছুঁয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না বিধানসভা কেন্দ্র এই নির্বাচনে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এই কেন্দ্রে বামপন্থী দলগুলির প্রভাব বেশি ছিল, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে, যখন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অশোক দিন্দা বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। এতে স্পষ্ট হয় যে, ভোটারদের মনোভাব দ্রুত বদলাচ্ছে এবং প্রতিটি নির্বাচনেই নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
Read More: বাংলায় সরকার গড়ার পথে তৃণমূল, এবার ক্রীড়ামন্ত্রীর পদে আসছেন সৌরভের প্রিয় বন্ধু !!
গেরুয়া ঝড় আসতে চলেছে বাংলায়

ফল প্রকাশের আগে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যও জনমনে কৌতূহল বাড়াচ্ছে। রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক বিজেপি নেতা বলেন, “ভগবান আমাদের সঙ্গে আছেন। বিপদে-আপদে আমরা সবসময় ঠাকুরের স্মরণাপন্ন হই। কাল রাজ্যের ভবিষ্যৎ সামনে আসবে। ঠাকুরের কাছেই এটাই চাইলাম যাতে সত্যের জয় হয়, সব গেরুয়াময় হয় এবং বিজেপি সরকার গড়ে।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আজকের দিনটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলাফলের উপর নির্ভর করছে শুধু সরকার গঠন নয়, বরং আগামী দিনের প্রশাসনিক দিকনির্দেশও। এখন দেখার বিষয়, জনতার রায় কোন দিকে ঝোঁকে এবং কে পায় নবান্নের দায়িত্ব।