বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে একাধিক ঘটনা স্মরণীয় হয়ে আছে। ক্রিকেটের সঙ্গে সঙ্গে এখানে ফুটবলকে নিয়ে রয়েছে বিপুল উন্মাদনা। গত বছর কলকাতায় পা রেখেছিলেন লিওনেল মেসি (Leonel Messi)। তাকে নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ছিল আবেগের বন্যা। এক ঝলক দেখার জন্য যুবভারতীতে ভীড় জমিয়েছিলেন বাংলার ফুটবল প্রেমীরা। কিন্তু এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। যা লজ্জার দৃষ্টান্ত তৈরি হয়ে আছে। সেই সময়ে ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) ভূমিকা সমালোচনার মুখে পড়েছিল। এবার অরুপ বিশ্বাস বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পর মুখ খুললেন মেসিকে নিয়ে আসার অন্যতম কারিগর শতদ্রু দত্ত। তার মন্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয়েছে জল্পনা।
Read More: “৫ কোটি চেয়েছিলেন..”, BJP জিততেই পাল্টি খেয়ে তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক মনোজ তেওয়ারি !!
মেসিকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক-

২০২৫ সালে গুরুত্বপূর্ণ ভারত সফরে এসেছিলেন লেওনেল মেসি। এটি সম্পূর্ণ একটি কর্পোরেট অনুষ্ঠান ছিল। শতদ্রু দত্তের উদ্যোগে সমস্ত পরিকল্পনা পরিচালিত করা হয়। ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় ফুটবলের রাজপুত্র তার নিজের স্ট্যাচু উদ্বোধন করেন। তারপর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ওঠার জন্য যান। স্টেডিয়ামে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
কিন্তু মেসি মাঠে প্রবেশ করতেই তাকে ঘিরে ধরে বেশ কিছু উৎসুক জনতা। তারা বেশিরভাগই ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ। মেসিকে কার্যত জড়িয়ে ধরতে দেখা যায় অরুপ বিশ্বাসকে। এরপরই নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলের রাজপুত্রকে স্টেডিয়াম থেকে বার করে নিয়ে যাওয়া হয়। হাজার-হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে দেখতে আসা সাধারণ দর্শকরা মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ফলে তারা ভাঙচুর চালায়।
বিস্ফোরক শতদ্রু দত্ত-

এই বছর বিধানসভা ভোটে টালিগঞ্জ আসনে বিপুল ভোটে পাপিয়া অধিকারীর (Papia Adhikari) কাছে পরাজিত হয়েছেন অরুপ বিশ্বাস। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর হারের পিছনে মেসিকান্ডের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে বাংলায় তৃণমূল সরকারের পতন হতেই বিস্ফোরক মন্তব্যে করলেন শতদ্রু দত্ত। সমস্ত তথ্য সামনে আনবেন বলে কার্যত হুমকি দিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার একের পর এক পোস্ট নিয়ে বর্তমানে চর্চা শুরু হয়েছে।
শতদ্রু অরুপ বিশ্বাসের নাম উল্লেখ না করে লেখেন, “তোমার খেলা শেষ এবার আমার খেলা শুরু।” মাঠে ঢোকার কার্ড নেওয়ার জন্য ভয় দেখানো হয় এবং ব্ল্যাকমেল পর্যন্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন। আরও একটি পোস্টে লেখেন, “আমাকে জেলে ঢুকিয়ে আমার পরিবারকে টার্গেট করা হয়েছিল। পরিবারকে রক্ষা করার জন্য এতদিন চুপ ছিলাম।” সাংবাদিক সম্মেলন করে সমস্ত সত্য সামনে আনবেন শতদ্রু বলে জানিয়ে দিয়েছেন।