পড়াশোনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে, মান্ধানা যা উত্তর দিলেন তা শুনে আপনি হাসি চেপে রাখতে পারবেন না! 1

স্মৃতি মন্ধনা। ভারতীয় মহিলা দলের এই ক্রিকেটারটিকে এখন চেনেন না, হয়ত বা কাউকে খুঁজলে পাওয়া যাবে। যেমন সুর্দশনা, তেমন স্টাইলিস্ট ব্য়াটসওমেন। ব্য়াটটা বাঁ-হাতে করেন, ফলে মানুষের নজরে একটু বেশিই পড়েন। আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপে পরের দিকে তেমন সুবিধা করে উঠতে না পারলেও, প্রথম দিকে দারুন নজর কেড়েছিলেন। বলা চলে ২০১৭ বিশ্বকাপে ভারতের স্বপ্নের দৌড়ের রিলে রেসটা মন্ধনার হাত দিয়েই শুরু। এবারের মহিলাদের বিশ্বচ্য়াম্পিয়ন ইংল্য়ান্ডকে হারিয়েই বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করেছিল ভারতীয় মহিলা দল। ওই ম্য়াচে ৯০ রান করেছিলেন মুম্বইয়ের এই মহিলা ক্রিকেটারটি। তাপপরেই ম্য়াচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১০৬ রান আসে একুশ বছরের এই ক্রিকেট সুন্দরীর ব্য়াট থেকে। পরপর দুটি ম্য়াচে অনবদ্য় ইনিংস প্রচারের আলোয় নিয়ে চলে আসে তাঁকে। বলা হচ্ছে, আগামী দিনে মহিলা ক্রিকেটের অন্য়তম স্টার হয়ে উঠবেন। তাছাড়া, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের গ্ল্য়ামার গার্ল হয়ে ওঠার জন্য় যথেষ্ট রসদ মজুদ রয়েছে এই মারাঠী তনয়ার মধ্য়ে।

মুম্বইতে জন্ম হলেও, স্মৃতির যখন দুবছর বয়স, সেই সময় তার বাবা-মা সাংলিতে বাড়ি বদলে নেন। বড়ভাইকে মহারাষ্ট্রের অনূর্ধ্ব-১৬ দলে ক্রিকেট খেলতে দেখে উৎসাহিত হয়ে নবছর বয়সে ক্রিকেট খেলায় হাতে খড়ি। বাবা-মা দুজনেই ক্রিকেট খেলতেন একসময়, ফলে ক্রিকেটটা শুরু থেকেই রক্তে ছিল। স্মৃতির ক্রিকেট প্রোগ্রামের ব্য়াপারটা তাঁর বাবা দেখেন। আর মা খেয়াল রাখেন, মেয়ের ডায়েটের ব্য়াপারটা।

সিনিয়র টিমে আসার আগে ২০১৩ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে নজর কাড়েন। পশ্চিমাঞ্চলের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টে ১৫০ বলে অপরাজিত ২২৪ রান করে নির্বাচকদের প্রশংসা আদায় করে নেন। ২০১৪ সালে ভারতের জার্সি গায়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেক। দুই ইনিংসে ২২ ও ৫১ রান করে জানান দিয়ে দেন, তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যেতে আসেননি তিনি। গতবছর মহিলাদের বিগব্য়াশ লিগে খেলার সুযোগ পান ব্রিসবেন হিটের হয়ে। খেলার ধার আরও বাড়ে ওখান থেকেই, সেই সঙ্গে আক্রমণাত্মক মেজাজটাও। একদিনের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম আন্তর্জাতিক শতরান এরপরেই।

পড়াশোনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে, মান্ধানা যা উত্তর দিলেন তা শুনে আপনি হাসি চেপে রাখতে পারবেন না! 2

পড়াশোনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে, মান্ধানা যা উত্তর দিলেন তা শুনে আপনি হাসি চেপে রাখতে পারবেন না! 3
স্মৃতি মান্ধানা

বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন সব ক্রিকেটারেরই থাকে, স্মৃতিও তার ব্য়তিক্রম নন। ক্রিকেটের মক্কায় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্ন স্বার্থক হয়েছে। শোনালেন সেই কথাই, সত্য়ি বলতে, সফরটা ভালই কেটেছে। ছোটো থেকে সব ক্রিকেটাররেই স্বপ্ন থাকে লর্ডসে খেলার। আমরাও ছিল। ২০১৪ সালে সুযোগ এলেও, সেবার বৃষ্টিতে ম্য়াচ বানচাল হয়ে গিয়েছিল। এখনও মনে পড়ে, ঝুলন দিদি সেদিন আমাকে আর শিখাকে (পান্ডে) বলেছিল, ২০১৭ সালের বিশ্বাকাপের ফাইনাল এখানেই হবে। আমরা ভালো খেলতে পারলে, ফাইনাল লর্ডসেই খেলতে পারব। আমাদের সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে। একমাঠ ভর্তি দর্শকের সামনে খেললাম।

পড়াশোনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে, মান্ধানা যা উত্তর দিলেন তা শুনে আপনি হাসি চেপে রাখতে পারবেন না! 4 পড়াশোনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে, মান্ধানা যা উত্তর দিলেন তা শুনে আপনি হাসি চেপে রাখতে পারবেন না! 5

জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ জিতে রেকর্ড গড়তে পারতেন দলের সদস্য় হিসেবে। কিন্তু, শেষ ধাপটা ভারত পার করতে পারল না, সারাক্ষণ ম্য়াচের মধ্য়ে থেকেও। যদি এর উত্তরটা জানা খাকত, তাহলে ফাইনালে আরও ভালো করা ব্য়াট করতে নামতাম। পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে একইরকম আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। ভুল শট সিলেকশন করে হতাশ করি সবাইকে। ফাইনালেও আমি আমার উইকেটটা দিয়ে এসেছি। কোনও বোলার আমায় আউট করেনি। কোন বল খেলব আর কোন বল ছাড়ব, সেটা ভাবনা-চিন্তা করতে হবে। বিশ্বকাপে পরের সাতটি ম্য়াচে সেই ভুলটাই হয়েছিল। এখনও বুঝতে পারছি না দুটো ভালো ইনিংস খেলার পর কেন, এভাবে বাজে শট নিয়ে গোটা টুর্নামেন্টে আউট হলাম। আমি এখনও এনিয়ে ভেবে যাচ্ছি। আশা করি, পরের বারে ভালো ক্রিকেট খেলব।

পড়াশোনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে, মান্ধানা যা উত্তর দিলেন তা শুনে আপনি হাসি চেপে রাখতে পারবেন না! 6 পড়াশোনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে, মান্ধানা যা উত্তর দিলেন তা শুনে আপনি হাসি চেপে রাখতে পারবেন না! 7

ভারতের এই তরুণ মহিলা ক্রিকেটারটি কলেজ পড়ুয়া।

এখনও ফার্স্ট ইয়ারেই আটকে আছেন। সে বিষয়ে বেশ হেসেই বললেন, আমি ফেল করিনি। আসলে আমার পরীক্ষা দেওয়া হয়ে ওঠে না।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *