ধোনিকে অবসর নিয়ে জিজ্ঞেস করেন ডেভিলিয়ার্স, তার উত্তর মাহি যা বললেন .. 1

ধোনিকে অবসর নিয়ে জিজ্ঞেস করেন ডেভিলিয়ার্স, তার উত্তর মাহি যা বললেন .. 2

বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা দুজন সুপারস্টার হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনী। সারা দুনিয়ায় দুজনের ই অসংখ্য সমর্থক থাকলেও দুজনের ক্যারিয়ারের গতি পথ এক নয়। তাদের উভয়ের ব্যাটিং এর মুগ্ধ সমর্থক সারা পৃথিবী জুড়ে থাকলেও ধোনী তার অভিষেক হতে শুরু করে এখন পর্যন্ত যে ভাবে খেলে চলছে সেটা ডি ভিলিয়ার্সের পক্ষে বিরামহীন ভাবে খেলা সম্ভব হয় নি। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আরো মনোযোগী হওয়ার জন্য বিশেষ করে ২০১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রোটিয়া তারকা ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স জানুয়ারী ২০১৬ হতে টেস্ট ক্রিকেট খেলছেন না। মাঝ পথে এসে তিনি অতি সম্প্রতি আবার সব ধরনের ক্রিকেট খেলা ঘোষনা দিয়েছেন। এই বিষয়টি খুব অবাক করার তার এই বয়সেও সে কেন মনে করেছিলেন তার পক্ষে সব ধরনের ক্রিকেটে মনোযোগী হওয়া সম্ভব না এবং সম্ভবত এ কারনে ই তিনি ২০১৫ বিশ্বকাপ ক্রিকেট শেষে সে সময়কার ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনীর কাছে জানতে চেয়েছেন ধোনী কি করে টানা খেলে চলে। এ ঘটনার কথা স্মরন করে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করছিলেন কি করে ধোনী এভাবে খেলে। ৩৬০ ডিগ্রি খ্যাত এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান, ক্রিজে ব্যাট এমন ভাবে চালায় যেমন যুদ্ধ ক্ষেত্রে সৈনিক তার তলোয়ার চালায়।

 

ডি ভিলিয়ার্স ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে অত্যন্ত স্বল্প সময় নিয়ে ব্যাটিং করে থাকেন। সবচেয়ে বেশী ৭৮ টেস্ট ইনিংস খেলে কোনরূপ শূন্য রান করেননি তিনি যা একটি রেকর্ডরূপে চিহ্নিত। অবশেষে নভেম্বর, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে টেস্টে অংশ নিয়ে তার এ রেকর্ডটি ভেঙ্গে যায়। “এবি ডি ভিলিয়ার্স একটি টেস্ট ম্যাচে সর্বাধিক আউট করে এখন বিশ্বরেকর্ডের সমান অংশীদার। বর্তমানে আরসি রাসেল ১৯৯৫/৯৬ মৌসুমে জোহানেসবার্গে ইংল্যান্ড বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার খেলায় ১১টি আউট করে এ রেকর্ডটি গড়েছিলেন।” এছাড়াও তিনি দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৭ বলে অপরাজিত ১০৩ রান করেন। এরফলে তিনি প্রথম উইকেট-রক্ষক হিসেবে এক টেস্টে সেঞ্চুরিসহ দশটি আউট করেন।

মহেন্দ্র সিং ধোনীর অধিনায়ত্ব ও রেকর্ড ও বর্নিল। মহেন্দ্র সিং ধোনির অধিনায়কত্বে ভারত ২০০৭ আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ , ২০০৭-০৮ সালের সিবি সিরিজ, ২০০৮ সালের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি , ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে একটি সিরিজ ও ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করেছে। তার অধিনায়কত্বেই ভারত টেস্টের র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছিল। এখনও পর্যন্ত টেস্ট এবং ওয়ান-ডে ইন্টারন্যাশনালে তার রেকর্ড ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে সেরা। তিনি ২০১৩ সালে ইংল্যান্ড এ অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় করেন ,সেই সাথে বিশ্বের প্রথম অধিনায়ক যিনি আইসিসি র সব টুর্নামেন্ট জয় করার কৃতিত্ব রয়েছে । আইপিএল ২০১০ ও চ্যাম্পিয়ন্স লীগে তিনি চেন্নাই সুপার কিংস দলের অধিনায়কত্ব করছেন। তার নেতৃত্বে ভারতীয় দল প্রথম শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ জয় করেছে এবং ভারত কুড়ি বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারাতে সক্ষম হয়েছে। ধোনি একাধিক সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি ২০০৮ ও ২০০৯ সালে আইসিসি একদিনের ক্রিকেটের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পান। তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি এই পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া তিনি ভারতের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান রাজীব গান্ধী খেলরত্ন ও দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী পেয়েছেন।

২০১৫ বিশ্বকাপে মেলবোর্নে ভারত – দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ শেষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সময় ভিলিয়ার্স ধোনীকে জিজ্ঞেস করেছিল, “কার কত দিন তুমি এভাবে খেলে যেতে চাও? উত্তরে ধোনী বলেছিল, সে প্রতিটি সেকেন্ড ভালবাসে”

Nazmus Sajid

Sports Fanatic!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *