টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখলেন এক দুর্দান্ত লড়াই। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল টিম ইন্ডিয়া। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল টানটান উত্তেজনা। মেগা ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন সঞ্জু স্যামসন। ইংল্যান্ডের বোলারদের বিরুদ্ধে দারুণ শট খেলতে থাকেন তিনি। স্যামসনের ব্যাট থেকে বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারির জেরে ভারতের স্কোর দ্রুত বেড়ে যায়।
ফাইনালে পৌঁছালো টিম ইন্ডিয়া

তার এই আগ্রাসী ইনিংস ভারতকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যায়। তার ব্যাটিং শুধু রানই এনে দেয়নি, দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিয়েছে। শুরু থেকেই তাঁর ব্যাটে ছিল আগ্রাসন, যে কারণে মিডিল অর্ডারে থাকা ব্যাটসম্যানরা হাত খুলে খেলতে সক্ষম হয়েছেন। মেগা ম্যাচে ভারত শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিযোগিতামূলক স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়, যা ইংল্যান্ডের জন্য সহজ ছিল না। তবে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা লড়াই ছাড়েনি। রান তাড়া করতে নেমে তারা শুরু থেকেই ম্যাচে টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যায়।
তবে মাঝের ওভারগুলোতে নিয়মিত উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে তারা। তবুও শেষ পর্যন্ত ম্যাচে লড়াই চালিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বিশেষ করে তরুণ ব্যাটার জ্যাকব বেথেল প্রথম থেকেই দলকে টেনে নিয়ে চলছিলেন। বেথেলের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ড হয়তো ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। ঠিক সেই সময় ভারতের জন্য ত্রাতা হয়ে ওঠেন জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)। ডেথ ওভারে বুমরাহ তার বিখ্যাত ইয়র্কার এবং স্লোয়ার বল দিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের কার্যত আটকে রাখেন। তার বোলিংয়ের সামনে ইংল্যান্ডের রান তোলার গতি কমে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড জয়ের কাছাকাছি গিয়েও থেমে যায়। চার ওভারে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন বুমরাহ। পাশাপশি বুমরাহ তাঁর শেষ ২ ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র ১৪ রান।
বুমরাহকে নিয়ে চাহালের মজার প্রশংসা

বুমরাহের ডিফেন্সিং বোলিংয়ের চাপই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাশাপাশি, ইংলিশ দলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে আউট করে এই ম্যাচেই বুমরাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ৫০০তম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এর ফলে তিনি অষ্টম ভারতীয় বোলার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করে ফেললেন। ম্যাচ শেষে ভারতীয় স্পিন উইজার্ড যুজবেন্দ্র চাহাল (Yuzvendra Chahal) যিনি এই মুহূর্তে কমেন্ট্রি প্যানেলের সঙ্গে যুক্ত, তিনি বুমরাহর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন।
তাকে নিয়ে মজার ছলে বলেন, “আমাদের কোহিনূর হীরার দরকার নেই, আমাদের এখানে জসপ্রীত বুমরাহ আছে।” চাহাল আরও বলেন, “চাপের মুহূর্তে বুমরাহ কখনও নার্ভাস হয় না। তাই দলের সবাই তার ওপর ভরসা করে। যদি বুমরাহ না থাকত, তাহলে ভারত হয়তো বা ফাইনালে উঠতে পারত না।” এখন ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। ভারতের আরেকটি বড় জয়ের জন্য অপেক্ষা করছে সমস্ত ক্রিকেটপ্রেমীরা।