WPL 2024: গতকাল বেঙ্গালুরুতে মহা ধুমধামের সাথে শুরু হয়েছে উইমেন্স প্রিমিয়ার লীগের (WPL) দ্বিতীয় মরসুম। জমজমাট প্রথম ম্যাচে শেষ বলে ছক্কা মেরে দিল্লী ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে জয় এনে দিয়েছেন কেরলের এস সাজানা। আজ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনেও এক রোমাঞ্চকর ম্যাচের সাক্ষী হলো বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। টসে জিতে প্রথমে প্রতিপক্ষ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু’কে ব্যাটিং-এর আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ইউ পি ওয়ারিয়র্স অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি। টপ অর্ডারের ব্যর্থতা সত্ত্বেও আরসিবি ইনিংসকে স্থিরতা দেন অন্ধ্রের সাব্বিনেনি মেঘনা ও বাংলার রিচা ঘোষ। ২০ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে তারা তোলে ১৫৭ রান। তাড়া করতে নেমে গ্রেস হ্যারিস, শ্বেতা শেহরাওয়াতদের সৌজন্যে কাছাকাছি পৌঁছেও গিয়েছিলো ইউ পি। কিন্তু থামতে হলো ১৫৫তে। ঘরের মাঠে জিতেই মরসুমের সূচনা করলো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স।
Read More: WPL 2024: “পাওয়ার হিটিং-এর মাস্টারক্লাস…” রানের রোশনাই রিচা’র ব্যাটে, বঙ্গকন্যাকে শুভেচ্ছায় ভরালো নেটজনতা !!
বেঙ্গালুরু ইনিংসকে টানলেন রিচা ও মেঘনা-

ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিলো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে। সোফি ডিভাইন ও স্মৃতি মন্ধানারা ওপেনিং জুটি ভাঙে তৃতীয় ওভারেই। কিউই তারকা ফিরে যান ৫ বলে ১ রান করে। বেশী দূর এগোতে পারেন নি বেঙ্গালুরু অধিনায়ক স্মৃতি’ও। ডব্লুপিএলের প্রথম ম্যাচে ১১ বলে ১৩ রান করে আউট হন তিনি। মারেন ১টি চার ও ১টি ছক্কা। অস্ট্রেলীয় সুপারস্টার এলিস পেরী নেমেছিলেন স্মৃতি আউট হওয়ার পর। রান পান নি তিনিও। মাত্র ৮ করেই ফিরতে হয় সোফি একলেস্টোনের বলে। আট ওভার সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ৫৪ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে রীতিমত চাপে পড়েছিলো বেঙ্গালুরু। কঠিন পরিস্থিতিতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন সাব্বিনেনি মেঘনা ও রিচা ঘোষ।
তিন নম্বরে নামা সাব্বিনেনি মেঘনাই দুলতে থাকা বেঙ্গালুরু তরীতে স্থিরতা দানের প্রাথমিক কাজটা করেন আজ। পেরী আউট হওয়ার পর তাঁর সাথে যোগ দেন রিচা। অন্ধ্রের মেঘনার ব্যাট থেকে দেখা গেলো ৪৪ বলে ৫৩ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়ের বলে স্টাম্প হওয়ার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে আজ ঝড় তুললেন বাংলার রিচা। পাঁচে ব্যাট করতে নেমেছিলেন তিনি। থিতু হয়ে খানিক সময় নেন। প্রথম ১৪ বলে করেন ১২ রান। তারপর গিয়ার বদলাতে দেখা যায় শিলিগুড়ির তরুণীকে। পরবর্তী ৫০ রান আসে মাত্র ২৩ বলে। সাইমা ঠাকুরকে একই ওভারে পরপর চারটি চার মারেন তিনি। ৩৭ বলে ১২টি চারের সাহায্যে করেন ৬২ রান। শূন্য করে আউট হন জর্জিয়া ওয়ারহ্যাম। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে আরসিবি’র স্কোর ১৫৭তে নিয়ে যান শ্রেয়াঙ্কা পাতিল।
শোভনার বোলিং-এর উত্তর খুঁজে পেলো না ইউ পি-

ইনিংসের গোড়ায় বিপাকে পড়েছিলো ইউ পি ওয়ারিয়র্স’ও। তাদের অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক অ্যালিস হিলি ওপেন করতে এসে ১ ওভার ২ বলের বেশী স্থায়ী হন নি ক্রিজে। দলের স্কোর যখন মাত্র ১০, তখন ৪ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর বৃন্দা দীনেশ ও তালিয়া ম্যাকগ্রা, দুজনেই থিতু হওয়ার জন্য সময় নিলেন ক্রিজে। কিন্তু বড় রান করতে পারেন নি। নবম ওভারের প্রথম বলে শোভানা আশা’র বলে আউট হন দীনেশ। ২৮ বলে ১৮ রানের মন্থর ইনিংস খেলেন তিনি। এর দুই বল পরেই সাজঘরে ফেরেন তালিয়া ম্যাকগ্রা’ও। অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডারের সংগ্রহ আজ ১৮ বলে ২২ রান। বোল্ড হন তিনি। ৪৯ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়েছিলো ইউ পি। ঘরের মাঠে জয় দিয়েই যাত্রা শুরুর আশা জেগেছিলো বেঙ্গালুরু শিবিরে। কিন্তু রুখে দাঁড়ান গ্রেস হ্যারিস ও শ্বেতা শেহরাওয়াত।
দ্বিতীয় মরসুমে তিনি যে অন্যতম চমক হতে চলেছেন, তা আজ বুঝিয়ে দিলেন বছর ১৯-এর তরুণী শ্বেতা। পছন্দের টপ-অর্ডার নয়, বরং সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২৫ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। আশা শোভনার বলে ধরা পড়েন স্মৃতি মন্ধানার হাতে। গত বছর গুজরাত জায়ান্টসের বিরুদ্ধে প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচ ব্যাট হাতে জিতিয়ে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রেস হ্যারিস। আজকেও সেই দিকেই এগোচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ান সেই শোভনা। ২৩ বলে ৩৮ করে বোল্ড হন তিনি। এরপর কিরণ নভগিরেকেও আউট করেন তিনি। ৪ ওভারে ২২ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিলেন শোভনা। দুটি স্টাম্পিং করেন রিচা। পুনম খেমনারের ব্যাটে আশা জেগেছিলো ইউ পি’র। কিন্তু ম্যাচ ফিনিশ করতে পারেন নি তিনিও। শেষমেশ তারা থামে ১৫৫ রানে। ২ রানে জিতে ২ পয়েন্ট পেলো বেঙ্গালুরু।