ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন প্রতিভার অভাব কখনও আসেনি। কিন্তু কিছু খেলোয়াড় আসেন যাদের ঘিরে তৈরি হয় আলাদা উত্তেজনা। বৈভব সূর্যবংশী সেই তালিকার নতুন সংযোজন। বৈভবের জন্ম ২০১১ সালের ২৭শে মার্চ। ছোটবেলা থেকেই তার ব্যাটিং প্রতিভা নজর কেড়েছিল কোচ এবং নির্বাচকদের। বৈভবের ক্রিকেট যাত্রা শুরু হয় খুব অল্প বয়সেই। মাত্র ১২ বছর বয়সে সে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক করে, যা তাকে ভারতের কনিষ্ঠতম প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটারদের মধ্যে স্থান দেয়। এই বয়সে এত বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করা যে কোনো ক্রিকেটারের জন্যই বিরল ঘটনা।
বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে একজন খেলোয়াড় একবারই অংশ নিতে পারে। বৈভব সেই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে। যদিও আগে এক খেলোয়াড় একাধিকবার যুব বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারতো। তবে, রাহুল দ্রাবিড়ের কথামতন নিয়মে রদবদল ঘটিয়েছে সেই নিয়মে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে তার ব্যাটিং ছিল অসাধারণ -৪৩৯ রান, ১৬৯+ স্ট্রাইক রেট এবং একাধিক ম্যাচ জেতানো ইনিংস। তার সবচেয়ে স্মরণীয় ইনিংস ছিল ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৭৫ রান। এই ইনিংস শুধু ম্যাচ জেতায়নি, বরং তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজায় পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় তিনিই হয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ বৈভবের

পাশাপাশি, আইপিএলে তার সাফল্য তাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। রাজস্থান রয়েলসের হয়ে খেলে সে দেখিয়ে দিয়েছে যে বড় মঞ্চে পারফর্ম করার ক্ষমতা তার রয়েছে। প্রথম ম্যাচেই লখনৌ সুপার জায়ান্ট-এর বিরুদ্ধে প্রথম বলে ছক্কা মেরে সে নিজের আগ্রাসী মানসিকতা দেখায়। পরে ৩৮ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়ে। গুজরাট টাইটান্স-এর বিরুদ্ধে সেই ইনিংস আজও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মাত্র ১৫ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা নিজেই একটি বড় ঘটনা। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল এর নিয়ম অনুযায়ী, এর আগে সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে পারেনি।
কিন্তু এখন তার সামনে সব দরজা খুলে গেছে। এইসব পারফরম্যান্সের কারণে এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন -সে কবে টিম ইন্ডিয়ায় অভিষেক করবে? সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা তাকে আরও আলোচনায় এনেছে। শচীন ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন। বৈভব যদি আগামী এক বছরের মধ্যে অভিষেক করে, তবে সে এই রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। তবে শুধু রেকর্ড ভাঙাই আসল লক্ষ্য নয়। বড় চ্যালেঞ্জ হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করা।