২০২৩-এর ওয়ান ডে বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য পারফর্ম্যান্স করেছিলেন মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। মাত্র ৭ ম্যাচ খেলে নিয়েছিলেন ২৪ উইকেট। কিন্তু চোট উপেক্ষা করে মাঠে নামার মাসুল এরপর দিতে হয় তাঁকে। ছিটকে যান গোড়ালির সমস্যার কারণে। অস্ত্রোপচার হয় বাংলার পেসারের। এরপর রিহ্যাব চলে আরও কয়েক মাস। শেষমেশ ২০২৫-এর গোড়ায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাদা বলের দুই ফর্ম্যাটে ফের একবার নীল জার্সিতে দেখা গিয়েছিলো তাঁকে। খেলেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে এরপর। হাঁটু ফুলে ওঠায় আইপিএলে বেশ কয়েকটি ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিলো শামি’কে। ইংল্যান্ড সফরেও ভাবা হয় নি তাঁকে। “পাঁচটি টেস্ট খেলার জন্য তৈরি নয় ও,” জানিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচক অজিত আগরকার। তবে কি চোটই থমকে দেবে তাঁকে? বুটজোড়া তুলে রাখতে বাধ্য হবেন শামি? ভাসছিলো সেই প্রশ্নগুলিই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার জবাব দিলেন শামি স্বয়ং।
Read More: “ব্রহ্মাস্ত্র হতে পারে ও…” এশিয়া কাপের আগে ভবিষ্যদ্বাণী শেহবাগের, প্রশংসায় ভরালেন এই তারকাকে !!
এখনই থামতে চান না শামি, লক্ষ্য বিশ্বকাপ-

ইংল্যান্ড সিরিজে সুযোগ পান নি শামি (Mohammed Shami)। এশিয়া কাপে জসপ্রীত বুমরাহ’কে সুযোগ দেওয়া হলেও ব্রাত্যই থেকে গিয়েছেন বাংলার তারকা। হর্ষিত রাণা, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণারা যে অদূর ভবিষ্যতে অগ্রাধিকার পেতে চলেছেন তাও এই মুহূর্তে দিনের আলোর মত স্পষ্ট। এমতাবস্থায় কি হতে চলেছে তাঁর ক্রিকেট ভবিষ্যত? প্রশ্ন করা হয়েছিলো শামি’কে (Mohammed Shami)। সংবাদমাধ্যম নিউজ ২৪’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেস তারকা জানিয়েছেন, “কারও যদি কোনো সমস্যা থাকে আমায় এসে বলুক যে আমি অবসর নিলে তাঁদের জীবন কি একটু সহজ হবে। কার পথের কাঁটা হয়ে উঠেছি আমি যে আপনারা চাইছেন আমি সরে দাঁড়াই? যেদিন উৎসাহ পাব না সেদিন নিজেই সরে দাঁড়াব। আমায় সুযোগ না দিলেও আমি কঠিন পরিশ্রম করে যাব। আন্তর্জাতিক আঙিনায় ডাক না পেলে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলব। কোথাও না কোথাও ঠিকই খেলে যাব।”
অবসর জল্পনায় জল ঢেলে শামি (Mohammed Shami) স্পষ্ট জানিয়েছেন, “যখন একঘেঁয়েমি এসে যায় তখন এই সিদ্ধান্তগুলো (অবসর) নিতে হয়। আমার সেই সময় এখনও আসে নি।” ২০২৩-এ ফাইনাল থেকে ফিরতে হয়েছিলো খালি হাতে। ২০২৭-এর বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ দূর করতে চান পেস তারকা। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “আমার একটা স্বপ্নই এখন বাকি রয়েছে। সেটা ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জয়। আমি এমন একটা দলের অংশ হতে চাই যারা দারুণ পারফর্ম করে ওয়ান ডে বিশ্বকাপ ঘরে নিয়ে আসে। আমরা ২০২৩-এ খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলাম। আমাদের মন বলছিলো (জিততে পারব) কিন্তু একটানা জিতছিলাম বলে ভয়ও ছিলো কারণ ওটা ছিলো নক-আউট পর্ব। কিছুটা সংশয় ছিলোই। কিন্তু সমর্থকদের উদ্যম, ওনাদের বিশ্বাস আমাদের ভরসা যুগিয়েছিলো। ঐ স্বপ্নটা পূরণ হতে পারত। কিন্তু আমার ভাগ্যে হয়ত ছিলো না।”
দলীপে ব্যর্থ শামি, সঙ্কটে ইস্ট জোন-

ইস্ট জোনের জার্সিতে দলীপ ট্রফি খেলছেন মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। কোয়ার্টার ফাইনালে বেশ ম্রিয়মান তারকা পেসার। নর্থ জোনের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ২৩ ওভার হাত ঘুরিয়েছেন তিনি। ৪.৩৫ ইকোনমি রেটে খরচ করেছেন ১০০ রান। ১টি’র বেশী উইকেটও পান নি তিনি। বিসিসিআই-এর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের মাঠে দাগ কাটতে পারেন নি মুকেশ কুমার’ও। ১৪.৫ ওভারে ৫০ রান খরচ করলেও কোনো সাফল্য নেই তাঁর ঝুলিতে। বরং বাংলার আরেক পেসার সূরজ সিন্ধু জয়সওয়াল ১৫ ওভারে ৪৪ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট পেয়েছেন। আয়ুষ বাদোনি, কানহাইয়া মাধবনদের অর্ধশতকের সৌজন্যে প্রথমে ব্যাটিং করে ৪০৫ তুলেছে নর্থ জোন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইস্ট জোন গুটিয়ে গিয়েছে মাত্র ২৩০ রানে। প্রথম ইনিংসে ১৭৫ রানে এগিয়ে নর্থ জোন। মিরাকল ছাড়া সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থাকবে শামিদের।