ভারতীয় ক্রিকেটে প্রাক্তন অধিনায়ক এমএস ধোনি (MS Dhoni) এবং তারকা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং-এর (Yuvraj Singh) সম্পর্ক নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলে আসছে। বিশেষ করে যুবরাজের বাবা যোগরাজ সিং বারবার অভিযোগ করেছেন যে ধোনির কারণেই তাঁর ছেলের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার দ্রুত শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবে, এই অভিযোগ নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি একই কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, ধোনি পরিকল্পিতভাবে যুবরাজকে দল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। যুবরাজ সিংয়ের যে প্রতিভা ছিল তাতে তিনি আরও চার-পাঁচ বছর ভারতীয় দলের হয়ে খেলতে পারতেন। কিন্তু ধোনির সিদ্ধান্তের কারণেই সেই সুযোগ তিনি পাননি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যোগরাজ আবারও এই অভিযোগ সামনে আনেন।
ধোনির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন সন্দীপ পাতিল

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি এমএস ধোনিকে কখনও ক্ষমা করব না। সে একজন দুর্দান্ত ক্রিকেটার, কিন্তু আমার ছেলের সঙ্গে যা করেছে তা ক্ষমার অযোগ্য।” কিন্তু এবার এই বিতর্কে নতুন করে মন্তব্য করলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং নির্বাচক সন্দীপ পাতিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচক কমিটির কোনও বৈঠকেই ধোনি কখনও যুবরাজকে বাদ দেওয়ার কথা বলেননি। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে ধোনি-যুবরাজ জুটি অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। ২০০৭ সালের আইসিসি মেন্স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০০৭-এ যুবরাজের ছয় বলে ছয় ছক্কার সময় ধোনি নন-স্ট্রাইক প্রান্তে ছিলেন। সেই ইনিংস বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে আজও আলোচিত।
নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতেন ধোনি

এরপর আসে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ। সেসময় বিশ্বকাপ ফাইনালে ধোনির আইকনিক ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করার সময়ে নন স্ট্রাইকারে ছিলেন যুবরাজ। এমনকি, সেই টুর্নামেন্টে যুবরাজের অসাধারণ পারফরম্যান্স ভারতকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে বড় ভূমিকা রাখে। তিনিই হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। তবে, ২০১১ সালে বিশ্বকাপের পরেই যুবরাজ সিংয়ের ক্যারিয়ারে প্রভাব পড়তে শুরু হয়। বিশেষ করে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই, ফিটনেস জনিত সমস্যা এবং দলের নতুন প্রজন্মের আগমন – সব মিলিয়ে দলে তার জায়গা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে পাতিলের মতে, এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় দলের নির্বাচনের দায়িত্ব ছিল পুরোপুরি নির্বাচক কমিটির উপর। অধিনায়ক হিসেবে ধোনি নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতেন। এই মন্তব্যের ফলে আবারও আলোচনায় এসেছে ধোনি-যুবরাজ বিতর্ক।