IPL 2026: ক্রিকেটে সাফল্য আর ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়- এই দুইয়ের সংঘর্ষে এখন দাঁড়িয়ে যশ দয়াল। ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আগেই তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু-এর ক্রিকেট ডিরেক্টর মো বোবাট জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণে যশ এই মরশুমে খেলবেন না। গত মরশুমে যশ দয়াল ছিলেন আর সি বি-র সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগর। বাঁহাতি পেসার হিসেবে তিনি দলকে এমন এক বৈচিত্র্য দিয়েছিলেন, যা প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল। ২০২৫ সালের আই পি এল-এ তাঁর ঝুলিতে ছিল ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট, যার মধ্যে অনেকগুলোই এসেছে ম্যাচের কঠিন সময়ে। বিশেষ করে নতুন বলে সুইং এবং ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিং—এই দুই দিকেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন।
আইনি জটিলতার বিতর্কে যশ দয়াল

তাঁর পারফরম্যান্সই আর সি বি কে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে দেয়। কিন্তু ২০২৫ সালের ফাইনালের পর থেকেই যশ দয়ালকে আর মাঠে দেখা যায়নি। তাঁর এই দীর্ঘ অনুপস্থিতিই তৈরি করে রহস্য, যা এখন অনেকটাই পরিষ্কার। যশ দয়ালের অনুপস্থিতির পিছনে রয়েছে গুরুতর আইনি জটিলতা। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি আলাদা মামলায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে, যা তাঁর ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ইন্দিরাপুরম থানায় একটি FIR দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী এক মহিলা দাবি করেন, যশ দয়াল তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে শোষণ করেছেন।
Read Also; “পাকিস্তানে এলেই মরতে হবে..”, PSL’এর বিদেশি তারকাদের হুমকি জঙ্গি সংগঠনের, মথায় হাত PCB’এর !!
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই বড় বিতর্ক তৈরি হয়। এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত রায় আসেনি। আরও গুরুতর অভিযোগ আসে জয়পুর থেকে। এক কিশোরী অভিযোগ করেন, ২০২৩ সাল থেকে যশ দয়াল তাঁর উপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন। এমনকি ২০২৫ সালের আইপিএল চলাকালীন একটি হোটেলে কেরিয়ার গড়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে শারীরিকভাবে শোষণ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এই মামলাটি POCSO Act-এর আওতায় হওয়ায় বিষয়টির গুরুত্ব অনেক বেশি। আদালত ডিসেম্বর ২০২৫-এ তাঁর অগ্রিম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়, কারণ অভিযোগগুলিকে প্রাথমিকভাবে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
যশ দয়ালের অনুপস্থিতিতে বড় ধাক্কা RCB-তে

যশ দয়ালের অনুপস্থিতি আরসিবি-র জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। দলের বোলিং আক্রমণে তিনি যে ভারসাম্য এনে দিতেন, তা এখন ভেঙে পড়েছে। ডানহাতি পেসার ভুবনেশ্বর কুমার-এর সঙ্গে বাঁহাতি দয়ালের জুটি ছিল দলের শক্তির অন্যতম ভিত্তি। অন্যদিকে স্পিন বিভাগে ক্রুনাল পান্ডিয়া-র নেতৃত্বে একটি কার্যকর ইউনিট তৈরি হয়েছিল, যেখানে পেস ও স্পিনের মধ্যে সুন্দর সমন্বয় ছিল।
দয়াল না থাকায় এই ভারসাম্য এখন আর আগের মতো নেই। ২০২৬ সালের আইপিএল শুরু হচ্ছে ২৮ মার্চ। প্রথম ম্যাচেই আরসিবি মুখোমুখি হবে সানরাইজ হায়দ্রাবাদ-এর মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত, আর সি বি এখনও যশ দয়ালের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এটি স্পষ্ট করে যে, ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি তাঁর উপর আস্থা রাখছে এবং ভবিষ্যতে তাঁকে আবার দলে দেখতে চায়।