কেএল রাহুল’কে (KL Rahul) কি আদৌ তাঁর প্রাপ্য সুযোগটুকু দেওয়া হচ্ছে? সাম্প্রতিক সময়ে এই নিয়েই ঝড় উঠেছে ক্রিকেটমহলে। ওপেনার হিসেবে কেরিয়ারের শুরুটা করেছিলেন কর্ণাটকের ক্রিকেটার। দলের প্রয়োজনে তাঁকে পছন্দের জায়গা থেকে সরিয়ে পাঠানো হয়েছিলো মিডল অর্ডারে। রাহুল দ্রাবিড় কোচ থাকাকালীন পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করছিলেন তিনি। গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) প্রশিক্ষকের কুরসীতে বসার পর ফের ব্যাটিং অর্ডারে স্থান পরিবর্তন হয়েছে তাঁর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে কখনও ছয় আবার কখনও আরও নীচে তাঁকে ব্যাটিং করতে পাঠানো হয়েছে।
একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে চেন্নাই টেস্টেও। ছয় নম্বরে নামতে হয়েছে রাহুলকে (KL Rahul)। দ্বিতীয় ইনিংসে সাবলীল ভঙ্গিতে ব্যাটিং করছিলেন তিনি। হাতে সময় থাকা সত্ত্বেও ডিক্লেয়ার করে দেন রোহিত। ১৯ বলে ২২* করেই থামতে হয় রাহুল’কে।চেন্নাই টেস্ট শুরুর আগে সাংবাদিক সম্মেলনে রোহিত শর্মা অবশ্য উলটো কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে “কে এল রাহুলের দক্ষতা কোন স্তরের, সে সম্পর্কে সকলেই ওয়াকিবহাল। ওর প্রতি আমাদের স্পষ্ট বার্তা যে আমরা চাই ও সব ম্যাচ খেলুক আর নিজের সেরাটা বের করে আনুক। ওর থেকে দল কি চায় তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরী।…” মাঠে যদিও এহেন মন্তব্যের প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় নি।
বিষয়টি ক্ষোভের সঞ্চার করেছে ক্রিকেটমহলে। প্রাক্তন খেলোয়াড় ও বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া (Aakash Chopra) স্পষ্টই বলেন, “রাহুল যদি ক্ষুব্ধ হয়ে থাকে, তাহলে সেই ক্ষোভ যুক্তিযুক্ত। আমরাও যথেষ্ট অখুশি হয়েছি।” শ্রীলঙ্কা সফরেও রাহুলকে নিয়ে যে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছিলেন গম্ভীর, তাতে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন আকাশ (Aakash Chopra)। বলেছিলেন, “কে এল রাহুল ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারের ‘স্টেপনি।’ ও ওপেনার হিসেবে খেলেছে, মিডল অর্ডার খেলেছে। আবার উইকেটকিপিং-ও করেছে। কোনদিন দেখবো ৩ নম্বরে নামিয়ে দিয়েছে দল।” এভাবে ‘আউট অফ পজিশন’ খেলার ফলে সেরাটা উজাড় করে দিতে পারছেন না রাহুল (KL Rahul), সুর চড়িয়েছেন অনুরাগীরা।
Read More: কানপুর টেস্টের আগে ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার !!
বোর্ডের হঠকারিতার ফল ভুগছেন কুলদীপ’ও-
একা কে এল রাহুল (KL Rahul) নয়, একই সমস্যার মধ্যে রয়েছেন স্পিনার কুলদীপ যাদব’ও (Kuldeep Yadav)। টেস্ট দলে থিতু হতে পারছেন না তিনিও। মাঝেমধ্যে যখনই সুযোগ পান, তখন ভালো পারফর্ম্যান্স’ও করেছেন ইতিপূর্বে। কিন্তু তাও নিয়মিত তাঁকে খেলানোর কথা ভাবে নি টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রায় ৩০ বছর বয়স হতে চললো কুলদীপ যাদবের (Kuldeep Yadav)। ২০১৭ সাল থেকে টেস্ট খেলছেন তিনি। আট বছরে সুযোগ পেয়েছেন সাকুল্যে ১২টি ম্যাচে। সিডনিতে ‘ফাইফার’ পাওয়ার পর তৎকালীন ভারতীয় কোচ রবি শাস্ত্রী (Ravi Shastri) কুলদীপকে “বিদেশের মাঠে ভারতের এক নম্বর স্পিনার” বলেছিলেন। কিন্তু আশ্বাস’ই সার, কখনও হাঁটুর চোট, কখনও টিম কম্বিনেশনের অজুহাত আবার কখনও স্রেফ দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে লাল বলের ফর্ম্যাটে আর সেরাদের একজন হয়ে ওঠা হয় না কুলদীপের।
পরিসংখ্যান বলছে ২১.০৫ গড়ে কুলদীপ (Kuldeep Yadav) নিয়েছেন মোট ৫৩টি উইকেট। ১৫ ইনিংসে হাত ঘুরিয়েছেন। এর মধ্যেই ৫ বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে। বিদেশেও পেয়েছেন সাফল্য। গত ২০২২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে দারুণ পারফর্ম্যান্স করে দলকে টেস্ট জিতিয়েছিলেন চট্টগ্রামে। মোট ৮ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচের সেরা। মীরপুরে ঠিক পরের টেস্টেই বাদ পড়তে হয়েছিলো তাঁকে। এহেন সিদ্ধান্তের যুক্তিগ্রাহ্যতা খুঁজে পান নি কেউই। কিন্তু মেনে নিতে হয়েছিলো কুলদীপকে (Kuldeep Yadav)। একই ঘটনা দেখা গিয়েছে চলতি বছরেও। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪ টেস্টে ১৯ উইকেট নেওয়ার পরেও পরিকল্পনাতে রাখা হয় নি কুলদীপ’কে। চেন্নাইতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাঁকে সময় কাটাতে হয়েছে রিজার্ভ বেঞ্চেই। সামনে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট রয়েছে। সেখানেও তাঁর খেলার ব্যপারে নেই কোনো নিশ্চয়তা।