আইপিএলের (IPL) আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের কমলা টুপি জিতেছিলেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। এরপর আন্তর্জাতিক আঙিনায় ফিরে সেই ফর্মের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেন নি তিনি। বদলে জুটেছে নিরন্তর ব্যর্থতা। টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) ২০২৪-এর আগে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিলো ৮৯। কিন্তু এই বছরের টুর্নামেন্ট শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯-এ। একমাত্র ফাইনালে করা ৭৬ ছাড়া কোনো কার্যকরী ইনিংস খেলতে পারেন নি তিনি। বেশ কয়েকটি ম্যাচে পেরোতে পারেন নি দশের গণ্ডীও। কুড়ি-বিশের বিশ্বকাপের পরে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েও ছন্দ খুঁজে পেতে দেখা যায় নি কোহলি’কে। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ বা নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও পান নি বড় রান। ‘রান মেশিন’-এর হলোটা কি? ক্রিকেটজনতার এই আশঙ্কার মাঝেই কোহলির পাশে দাঁড়ালেন দীনেশ কার্তিক (Dinesh Karthik)।
Read More: IPL 2025: বাদ আইয়ার-রানা, KKR-এর রিটেনশনে ঝুলছে রিঙ্কু-রাসেলের ভাগ্য !!
বিরাটের ব্যাটিং বিভ্রাটের উৎস বুঝেছেন কার্তিক-

স্পিনের বিরুদ্ধে বেশ সমস্যার মুখে পড়ছেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ওডিআইতেও ভাণ্ডারাসে, তীক্ষণা, ওয়েলালাগেদের সামলাতে ব্যর্থ হয়েছলেন তিনি। নিউজিল্যান্ড সিরিজেও তাঁকে সমস্যায় ফেলেছেন মিচেল স্যান্টনার (Mitchell Santner)। বাম হাতি অফস্পিনারের ফুলটস ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন ভারতীয় কিংবদন্তি। ঘূর্ণি বোলিং-ই আপাতত কোহলির ক্রিপ্টোনাইট, মনে করছেন দীনেশ কার্তিক (Dinesh Karthik)। ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বিরাটের জন্য বিষয়টা সহজ নয়। গত চারটে ইনিংসের মধ্যে তিনটেতে ও হতাশ করেছে। স্পিনের বিরুদ্ধে ও বারবারই সমস্যায় পড়ছে…” প্রাক্তন সতীর্থের পাশেই দাঁড়িয়েছেন তিনি। “…আমি নিশ্চিত যে এই সমস্যার সমাধান ও খুঁজে বের করতে পারবে। ও এমন একজন মানুষ যে সবসময় উত্তরের খোঁজে থাকে।” সংযোজন কার্তিকের।
সাক্ষাৎকারে দীনেশ কার্তিক (Dinesh Karthik) আরও জানান, “যখন আপনি একজন জিনিয়াস বা মহাতারকার স্তরে পৌঁছে যান, তখন আপনাকে একের পর এক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। এটাও তেমনই একটা চ্যালেঞ্জ। ভারত দেশের মাঠে স্পিন সহায়ক পিচে খেলা পছন্দ করে। এর বিরুদ্ধে ওর গেমপ্ল্যান কি হবে?” কেরিয়ারের অন্যতম কঠিন মুহূর্তেও কোহলিকে (Virat Kohli) মানসিক ভাবে শক্ত থাকারই পরামর্শ দিচ্ছেন কার্তিক (Dinesh Karthik)। প্রাক্তন সতীর্থের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা জানি ও কি করতে পারে। যেমনটা সমর্থকেরা বলছেন যে , ‘ও দীর্ঘ সময় ধরে এটা করে এসেছে। সেটাকে ভুলে গেলে চলবে না।’ তবে আমরা যদি বাস্তব বুদ্ধি দিয়ে যাচাই করে দেখি তাহলে দেখতে পাবো যে গত ২-৩ বছর স্পিনের বিরুদ্ধে বিরাট কোহলির পরিসংখ্যান খুব একটা ভালো নয়।”
স্পিন সমস্যার সমাধানের খোঁজে ডিকে-

একা কোহলি (Virat Kohli) নয়, গোটা ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ’ই কিউইদের বিরুদ্ধে স্পিন খেলতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে, স্বীকার করে নিয়েছেন দীনেশ কার্তিক (Dinesh Karthik)। তিনি জানান, “স্বীকার করতে বাধা নেই যে এই সিরিজে খানিক পুরনো বলে, ৮ থেকে ৩০ ওভারের মধ্যে স্পিন খেলা খুবই কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা সে বিরাট, রোহিত বা যেই হোক না কেন…” সমস্যার গোড়ায় পিচ, ধারণা তাঁর। বলেন, “…মাথাব্যথার বিশেষ কারণ নেই। এই পিচটাই স্পিনারদের খেলার জন্য খুব কঠিন। বিরাট কোহলির হয়ে সাফাই গাইবো না, কিন্তু এখানে স্পিন খেলা সত্যিই বেশ মুশকিলের।” দিনকয়েক আগে বিরাটকে (Virat Kohli) জড়তা কাটিয়ে ওঠার জন্য ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন অনিল কুম্বলে (Anil Kimble)। ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেমনটাই বলতে শোনা গিয়েছে দীনেশ কার্তিককেও।
২০১২ সালের পর থেকে রঞ্জি ট্রফিতে আর খেলেন নি বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। কেটে গিয়েছে ১২ বছর। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত অংশ না নেওয়া স্পিনের বিরুদ্ধে তাঁর সাম্প্রতিক দুর্বলতার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ। কার্তিক’ও জানান, “সম্ভবত ওর উচিৎ ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে যাওয়া। এছাড়া ডিআরএস নিয়মগুলো মাথায় রেখে কি করে সমস্যার সমাধান করা যায় তার উপরে ফোকাস করা। বাম হাতি স্পিনাররা যে ওর বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।” আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরের (IND vs AUS) আগে দিল্লীর হয়ে দুটি রঞ্জি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে বিরাটের (Virat Kohli) কাছে। তিনি তার সদ্ব্যবহার করবেন নাকি নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে (IND vs NZ) ওয়াংখেড়েতে তৃতীয় টেস্ট শেষ হওয়ার পর কিছুদিনের বিরতি নেবেন ক্রিকেট থেকে সেদিকেই এখন কৌতূহলী দৃষ্টি ক্রিকেটমহলের।