টি-২০ বিশ্বকাপের পর থেকে ক্রমাগত হেরেই চলেছে টিম ইন্ডিয়া (Team India)। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২৭ বছর পর খোয়াতে হয়েছে দ্বিপাক্ষিক ওডিআই সিরিজ। নভেম্বরে দেশের মাঠে নিউজিল্যান্ডও ভারতকে টেস্টে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ০-৩ ফলে। হোমগ্রাউন্ডে ১২ বছর পর হাতছাড়া লাল বলের সিরিজ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও নড়বড়ে দেখিয়েছে কোহলি-রোহিতদের। পার্থ-এ জয় দিয়েই দৌড় শুরু করেছিলো ‘মেন ইন ব্লু।’ কিন্তু অ্যাডিলেড, মেলবোর্ন ও সিডনিতে চাখতে হয়েছে পরাজয়ের স্বাদ। গত ৯ জুলাই নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। তিনি পদে বসার পর থেকেই ভারতের (Team India) ফর্মের গ্রাফ নীচের দিকে যাওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই ক্রিকেটজনতার রোষের মুখে পড়ছিলেন তিনি। কিন্তু পারফর্ম্যান্স পর্যালোচনার পর অনেকেই মনে করছেন গম্ভীর একা নয়, বরং দলের হতশ্রী ফলাফলের পিছনে দায় রয়েছে মুখ্য নির্বাচক অজিত আগরকারেরও।
Read More: কনুইয়ের চোটে কাহিল অধিনায়ক, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে চিন্তা বাড়লো দলের !!
আগরকারের ভুলচুকের তালিকা দীর্ঘ-
চেতন শর্মা স্টিং অপারেশনের কাঁটায় বিদ্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় খালি ছিলো ভারতীয় দলের (Team India) মুখ্য নির্বাচকের চেয়ার। অবশেষে অজিত আগরকারকে (Ajit Agarkar) নিয়োগ করে বিসিসিআই। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমের ফোকাসে থেকেছেন তিনি। তাঁর একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন সময়ে হয়েছে বিতর্ক। ২০২৩-এ এশিয়া কাপের স্কোয়াড নির্বাচনের সময় সঞ্জু স্যামসনকে (Sanju Samson) বাদ দেয় আগরকারের নেতৃত্বাধীন কমিটি। বদলে অনভিজ্ঞ তিলক বর্মাকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একদিনের ক্রিকেটে সেরা ছন্দে না থাকা সূর্যকুমার যাদবকেও দেওয়া হয় অগ্রাধিকার। এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা আজও খুঁজে পান না ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ। সেবার টিম ইন্ডিয়া (Team India) ট্রফি জিতলেও তিলক এবং সূর্য, দুজনেই হতাশ করেছিলেন। বিশ্বকাপের দলেও সঞ্জুর বদলে ডাক পান সূর্য, ঠিক কোন কারণে? জানা নেই আজও।
আগরকারের সূর্যকুমার (Suryakumar Yadav) প্রীতি এখন ভারতীয় ক্রিকেটের ওপেন সিক্রেট। রোহিতের (Rohit Sharma) অবসরের পর যেভাবে হার্দিক পান্ডিয়াকে (Hardik Pandya) এড়িয়ে মুম্বইয়ের তারকার হাতে টি-২০ নেতৃত্ব তুলে দেন মুখ্য নির্বাচক, তা মোটেই সঠিক নয় বলে মত অধিকাংশ ক্রিকেটবোদ্ধার। দীর্ঘ সময় সহ-অধিনায়ক পদে থাকার পরেও ক্যাপ্টেন্সি পান নি হার্দিক (Hardik Pandya)। এমনকি সহ-অধিনায়কত্বও দেওয়া হয় নি তাঁকে। হার্দিকের ফিটনেসের অভাব রয়েছে, আগরকার এহেন যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা করলেও তা বিশেষ মনঃপুত হয় নি কারও। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ঋষভ পন্থের সুযোগ পাওয়া নিয়েও উঠেছে পক্ষপাতের অভিযোগ। একদিনের খেলায় ৩৩.৫০ গড় ঋষভের। সঞ্জু’র গড় সেখানে ৫৬.৬৬। তা সত্ত্বেও কেরলের উইকেটরক্ষক-ব্যাটারকে ব্রাত্য রেখে বারবার ঋষভকেই সুযোগ দিয়ে গিয়েছেন তিনি।
কোচের সাথে চলছে দড়ি-টানাটানি-
টিম ইন্ডিয়ার (Team India) অন্দরের ফাটলগুলি স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক কালে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ চলাকালীন কোচ গৌতম গম্ভীরের সাথে অধিনায়ক রোহিত শর্মা’র দ্বন্দ্বের খবর সামনে এসেছিলো। গতকাল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণার পর এই যুদ্ধে জুড়ে গেলো মুখ্য নির্বাচক আগরকারের নাম’ও। অধিনায়ক ও মুখ্য নির্বাচক মিলে কার্যত কোণঠাসা করে দিয়েছেন কোচ’কে। একটি রিপোর্টে এমনটাই দাবী করা হয়েছে সংবাদমাধ্যম দৈনিক জাগরণে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে সহ-অধিনায়ক হিসেবে নাকি অভিজ্ঞ কাউকে চেয়েছিলেন গম্ভীর। তাঁর প্রথম পছন্দ ছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া (Hardik Pandya)। কিন্তু রোহিত ও আগরকারের চাপেই সহ-অধিনায়ক হয়েছেন শুভমান গিল। এমনকি সঞ্জুকেও নাকি টিম ইন্ডিয়াতে চেয়ে সওয়াল করেছিলেন কোচ। কিন্তু রোহিত ও আগরকার দুজনেই ভোট দিয়েছেন পন্থ’কে। ফলে দুবাইয়ের ফ্লাইটে জায়গা পেয়েছেন তিনিই।