সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ক্রিকেট মহলে। ভিডিওতে দেখা যায়, ইন্দোরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে টিম হোটেলে ঢোকার সময় হঠাৎই এক মহিলা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পৌঁছে যান রোহিত শর্মার সামনে। তিনি রোহিতের হাত ধরে টান দেন, কিছু বলতে থাকেন। মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে নিরাপত্তা কর্মীরা। এই দৃশ্য দেখে প্রথমে চমকে যান সকলে। এই ঘটনাকে অনেকেই তারকাদের পিছনে ছুটে বেড়ানো উন্মাদ ভক্তের কাণ্ড বলে ধরে নিয়েছিলেন। আবার সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। তবে ঘটনার পেছনের কারণ প্রকাশ্যে আসতেই বদলে যায় চিত্র।
রোহিতের হাত ধরে অসহায় মায়ের আর্তনাদ

ওই মহিলা হলেন সরিতা শর্মা। তিনি নিজেই ভিডিও বার্তায় সামনে এসে জানিয়েছেন, কেন তিনি এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেছিলেন। সরিতার মেয়ে আনিকা একটি বিরল ও জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য যে ইঞ্জেকশন প্রয়োজন, তার দাম প্রায় ৯ কোটি টাকা। সেই ওষুধ আনতে হবে আমেরিকা থেকে, আর হাতে সময় খুবই কম। সরিতা জানান, তাঁরা ইতিমধ্যেই বহু চেষ্টা করেছেন। ছোট ছোট ক্যাম্প করে মানুষের সাহায্য চেয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ৪.১ কোটি টাকা তুলতে পেরেছেন। কিন্তু বাকি অর্থ না জোগাড় হলে আনিকার জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে। ভারত–নিউজিল্যান্ড ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের বাইরে তাঁরা সাহায্যের আশায় ক্যাম্প করেছিলেন।
Read More: ভেন্যু বদল নয়, বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে হবে T20 বিশ্বকাপ, কড়া অবস্থানে ICC !!
কিন্তু তাতে খুব একটা সাড়া মেলেনি। তখনই তাঁর মনে হয়, বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার মতো মানুষের কাছে পৌঁছতে পারলে হয়তো কেউ না কেউ এগিয়ে আসবেন। কারণ, এই ক্রিকেটাররা এর আগেও মানবিকতার দৃষ্টান্ত রেখেছেন। হোটেলের সামনে সেই আবেগের মুহূর্তেই তিনি রোহিতের হাত ধরে ফেলেন। পরে নিজেই স্বীকার করেছেন, এটি তাঁর ভুল ছিল। তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। সরিতা বলেন, “আমি জানি আমি ভুল করেছি। কিন্তু একজন মা হিসেবে আমার সামনে আর কোনও রাস্তা ছিল না। আমি সেলফি তুলতে যাইনি। আমি শুধু আমার মেয়ের জীবন বাঁচাতে চেয়েছি।” এই ঘটনার পর বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা কি সিদ্ধান্ত নেন সেটা এখনো জানা যায়নি। তবে সরিতার এই আর্তি বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে ফেলেছে ইতিমধ্যেই।