ক্রিকেট মানে শুধু ব্যাট-বল নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আবেগ, প্রত্যাশা এবং কখনও কখনও নির্মমতা। ক্রিকেটের দুনিয়ায় সাফল্য যেমন দ্রুত আসে, তেমনই এক মুহূর্তে সবকিছু ভেঙেও পড়তে পারে। কিন্তু খুব কম ক্রিকেটারই আছেন, যারা সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার উঠে দাঁড়িয়ে নিজেদের নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। তেমনই এক গল্প ভারতীয় দলের প্রমুখ স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর। ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলে অসাধারণ প্রদর্শন দেখানোর পর জাতীয় দলে জায়গা পাকা করে ফেলেছে। সদ্য সমাপ্তি ঘটে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান তিনি, টুর্নামেন্টে যৌথ ভাবে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন তিনি ও বুমরাহ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বরুণ এক অপ্রত্যাশিত কথা জানিয়েছেন।
২০২১-এর আইপিএলে থ্রেট পান বরুণ চক্রবর্তী

বরুণ চক্রবর্তীর মাথায় আজ বিশ্বজয়ের মুকুট। এক বছরের মধ্যে দুটি আইসিসি ট্রফি জিতেছেন তিনি। অফফর্মে থাকার অভিযোগ সত্ত্বেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তকমা তাঁর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর অতীত- যেখানে ছিল অপমান, হুমকি, মানসিক যন্ত্রণা এবং অনিশ্চয়তা। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগ। আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু হতে চলেছে এই লীগ। ২০২১ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-এর সেই মরশুম চলাকালীন সময়েই প্রথমবার করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। তখন গোটা বিশ্ব করোনা মহামারীর কবলে। মানুষ ঘরবন্দি, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আইপিএল ছিল একমাত্র বড় বিনোদনের উৎস। বরুণের করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরই স্থগিত হয়ে যায় কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম আরসিবি ম্যাচ। সে সময় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড পর্দার আড়ালে আইপিএল আয়োজন করেছিল, তবুও কোভিড আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
READ MORE; IPL 2026-এর আগে MI-তে ক্যাপ্টেন্সির পালাবদল, হার্দিককে সরিয়ে দায়িত্বে স্কাই !!
বরুণ চক্রবর্তীর জীবনের উত্থান-পতন

এরপর পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে থাকে এবং শেষমেশ পুরো টুর্নামেন্টই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। আইপিএল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দর্শকরা। ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ সরাসরি দায়ী করতে শুরু করে বরুণকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় ভয়ংকর ট্রোলিং। তিনি নিজেই বলেছেন, “মানুষ আমাকে বলত, ‘তুমি মরে যাও।’ এমন দিনও দেখতে হয়েছে।” এই সময় তিনি কাঁধে চোট পান। চিকিৎসার জন্য ‘বাবল’ ছাড়তে হয়। এই সময়েই তিনি করোনায় আক্রান্ত হন বলে ধারণা করা হয়। তারপর তিনি অবশ্য ভারতীয় বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে বরুণের পারফরম্যান্স ছিল খুবই খারাপ, জাতীয় দল থেকে তাঁর জায়গা হারাতে হয়। কিন্তু বরুণ হার মানেননি। ধীরে ধীরে আবার ফিরে আসেন আইপিএলে – তারপর জাতীয় দলে, অর এখন তিনি বিশ্ব চাম্পিয়ন।