শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সফল অভিষেক সিরিজের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ভারতীয় দলের তারকা বৈষ্ণবী শর্মা। তার আত্মবিশ্বাসী লাইন-লেন্থ, নিয়ন্ত্রিত গতি এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার দক্ষতায় খুব অল্প সময়েই তিনি ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কাড়তে সক্ষম হন। তার দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার পর ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ আরও বেড়ে গিয়েছে। ওই ভিডিওতে তার প্রিয় ক্রিকেটার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বিনা দ্বিধায় বিরাট কোহলির নাম নেন এই তরুণ পেসার।
বিরাট কোহলিকে আদর্শ মানেন বৈষ্ণবী

বৈষ্ণবী শর্মার মতে, বিরাট কোহলি শুধু একজন অসাধারণ ক্রিকেটারই নন, বরং একজন পূর্ণাঙ্গ আদর্শ ব্যক্তিত্ব। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও কোহলিকে তিনি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেন। ভিডিওতে বৈষ্ণবী আরও জানান, কোহলির আত্মবিশ্বাস এবং মাঠে নিজেকে প্রকাশ করার ভঙ্গি তাকে অনুপ্রাণিত করে। কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার মানসিকতা তিনি কোহলির কাছ থেকে শিখতে চান। এই মন্তব্যের পরই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা, যেখানে অনেকেই বৈষ্ণবীর পরিপক্ব মানসিকতার প্রশংসা করেন।
Read More: ঋষভ পান্থ ও গম্ভীরের ঝগড়া তুঙ্গে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ থেকে পড়তে চলেছেন বাদ !!
১৮ ডিসেম্বর ২০০৫ সালে মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়রে জন্ম বৈষ্ণবী শর্মার। জানা যায়, মাত্র চার বছর বয়সে তার বাবা প্রথম তাকে মাঠে নিয়ে যান। সেখান থেকেই শুরু হয় এক স্বপ্নের যাত্রা, যা আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে এসে পৌঁছেছে। পেশায় বৈষ্ণবীর বাবা একজন জ্যোতিষী হলেও মেয়ের ক্রিকেট স্বপ্ন পূরণে কখনোই পিছপা হননি। আর্থিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তিনি সবসময় মেয়ের পাশে থেকেছেন। পরিবার থেকেই বৈষ্ণবী পেয়েছেন সবচেয়ে বড় সমর্থন, যা তার মানসিক দৃঢ়তার অন্যতম ভিত্তি।
অভিষেক সিরিজেই নজরকাড়া বৈষ্ণবী শর্মা

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সুযোগ পেয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে বড় মঞ্চ তার জন্য কোনো চাপ নয়। বরং দায়িত্ব নিয়ে খেলাই তার স্বভাব। পুরো সিরিজে বৈষ্ণবী শর্মা শিকার করেন মোট পাঁচটি উইকেট। একজন নবাগত পেসারের জন্য তার ইকোনমি রেট ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয় – মাত্র ৬.২৬। যদিও অভিষেক ম্যাচে তিনি উইকেটের দেখা পাননি, তবুও তার বোলিং ছিল যথেষ্ট নিয়ন্ত্রিত। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ধীরে ধীরে নিজেকে আরও মেলে ধরেন বৈষ্ণবী।
দ্বিতীয় ও চতুর্থ ম্যাচে দুটি করে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। শেষ ম্যাচেও একটি উইকেট যোগ করে সিরিজ শেষ করেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। বৈষ্ণবীর এই উত্থান শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতীয় নারী ক্রিকেটের জন্যও একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা। ছোট শহর থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার এই গল্প অনেক তরুণ ক্রিকেটারের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।