রবিবারের ভারত-পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন উঠছে পাকিস্তান কি আদৌ সেমিফাইনালে যেতে চেয়েছিল নাকি ভারতের সামনে আগে থেকেই আত্মসমর্পণ করে দিয়েছিল? মাঠে তাদের পারফরম্যান্স দেখে সেই প্রশ্ন অস্বাভাবিক নয়। কারণ, প্রয়োজনীয় রান তোলার কোনও মরিয়া চেষ্টা একবারও চোখে পড়েনি। তবে, ভারতের সামনে বারবার পাকিস্তান দলকে এভাবেই নাস্তানাবুদ হতে দেখা গিয়েছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্যায়ের এই ম্যাচের আগে ভারতের পয়েন্ট ছিল ৬ এবং পাকিস্তানের পয়েন্ট ছিল ৪। পাকিস্তান জিতলে পয়েন্ট সমান হলেও নেট রান রেটে ভারত ছিল অনেক এগিয়ে। ফলে পাকিস্তানকে ভারতের বানানো ২৫৩ রান তুলতে হত ৩৩.৩ ওভারের মধ্যে।
সেমিফাইনালে পৌছালো ভারত

এদিন, ভারতের টপ অর্ডারের ব্যর্থতা কাজে লাগাতে পারত পাকিস্তান। ভারতের হয়ে বেদান্ত ত্রিবেদীর ৯৮ বলে ৬৮ রানের ইনিংস ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। এরপর শেষদিকে ভারতের লোয়ার অর্ডার যে অবদান রাখে, সেটাই পার্থক্য গড়ে দেয়। এই রান তাড়া করতে নেমে ঝড়ের বেগে উইকেট হারিয়ে ফেলে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো রকম প্রচেষ্টা দেখতে পাওয়া যায়নি।একের পর এক ডট বল, মাঝেমধ্যে উইকেট পতন – সব মিলিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস এগোচ্ছিল লক্ষ্যহীনভাবে। শেষ পর্যন্ত ৩৩.৩ ওভারে পাকিস্তান তুলল মাত্র ১৬৭ রান। ৫৮ রানে ম্যাচ হারে এবং গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। অন্যদিকে ভারত ম্যাচ চলাকালীনই নিশ্চিত করে সেমিফাইনাল।
Read More: “আসল জায়গায় সমস্যা..”, বিশ্বকাপের আগে সৌরভ গাঙ্গুলী করলেন সূর্যকুমারদের সতর্ক !!
মাঠে মেজাজ হারালেন বৈভব

এদিন ম্যাচে তৈরি হয়েছিল এক লড়াকু পরিবেশ।ভারতের তারকা ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীকে আগ্রাসী হতে দেখা গিয়েছিল পাকিস্তানিদের সামনে। গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তান দলের কাছ থেকে পাওয়া ‘সেন্ড-অফ’-এর কথা ভোলেননি সূর্যবংশী। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভাইস ক্যাপ্টেন ভিহান মালহোত্রা যখন আলি হাসান বালুচের উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ১৭২/৬-এ চাপে ফেলে দেন, তখনই পাল্টা জবাব দিতে এগিয়ে আসেন সূর্যবংশী। ক্যামেরায় ধরা পড়ে, প্রতিপক্ষ ব্যাটারের উদ্দেশে স্লেজিং করছেন তিনি। মাত্র ১৪ বছর বয়স হলেও নিজের বক্তব্য শোনাতে একটুও পিছপা হননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত সহ-অধিনায়ক ভিহান মালহোত্রাকেই এগিয়ে এসে ছোট সতীর্থকে শান্ত করতে থাকেন। ঘটনাটি সমাজ মাধ্যমে নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে ওঠে।