ক্রিকেটে বয়স কখনও প্রতিভার মাপকাঠি হতে পারেনা। আবারও তার প্রমান দিলেন বিহারের তরুণ বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavsnshi)। ১৫ বছরের আগেই তিনি একেরপর এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আসছেন। ইতিমধ্যেই মাত্র ১৪ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক যুব ওয়ানডে ম্যাচে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক হিসাবে নিয়োজিত হয়েছেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ খেলছেন। ৩ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার বেনোনির উইলোমুর পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হয়ে যান বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ যুব ওয়ানডে অধিনায়ক। এর আগে ১৬ বছরের কম কোনো খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক অনূর্ধ্ব-১৯ ম্যাচে নেতৃত্ব দেননি। এবার সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখালেন বৈভব। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে তিনি ভেঙে দেন পাকিস্তানের আহমেদ শেহজাদের (Ahmed Sehzad) প্রায় দুই দশক পুরনো রেকর্ড।
এই ঐতিহাসিক সুযোগ আসে হঠাৎ করেই। দলের নিয়মিত অধিনায়ক আয়ুষ মাহাত্রে ও সহ-অধিনায়ক বিহান মালহোত্রা চোটের কারণে সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ায় টিম ম্যানেজমেন্ট নেতৃত্ব তুলে দেয় বৈভবের হাতে। তরুণ বয়স সত্ত্বেও মাঠে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আত্মবিশ্বাস প্রশংসা কুড়িয়েছে। যদিও অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচে ব্যাট হাতে বড় রান করতে পারেননি, তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্বের চাপ সামলে মাঠে নামাটাই ছিল তার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় তিনি মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।
Read More: “টপ লেভেলের খেলা..”, মুস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে জানতেন না খোদ BCCI’এর কর্তারাও !!
দুরন্ত ব্যাটিং করেছেন বৈভব সূর্যবংশী

বিশ্বকাপের আগে বৈভব সূর্যবংশীর ফর্ম ভারতীয় দলের জন্য আশার আলো। বিজয় হাজারে ট্রফিতে তার বিধ্বংসী ব্যাটিং এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে টাটকা। মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি, তারপর ৮৪ বলে ১৯০ রানের ইনিংস—এই সবই তার ব্যাটের শক্তির প্রমাণ। এই ইনিংসে ১৫টি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি লিস্ট এ ক্রিকেটে একজন ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ড গড়েন।
পাশাপাশি দ্রুততম ১৫০ রানের কৃতিত্বে তিনি পেছনে ফেলেন এবি ডি ভিলিয়ার্সকে—যা নিজেই এক বিশাল সাফল্য।এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফলেই ২০২৫–২৬ রঞ্জি ট্রফির প্রথম দুই রাউন্ডে বিহারের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে তাকে। এত অল্প বয়সে এমন দায়িত্ব পাওয়া ভবিষ্যতে জাতীয় দলের নেতৃত্বের সম্ভাবনাকেও উজ্জ্বল করে তুলছে। মাঠের বাইরেও বৈভবের কৃতিত্ব স্বীকৃতি পেয়েছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় শিশু পুরস্কার গ্রহণ করে তিনি প্রমাণ করেছেন—তার সাফল্য শুধু ক্রিকেট মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়।