IPL 2026: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে চলতি আইপিএলে জয়ের হ্যাটট্রিক করে নিলো রাজস্থান রয়্যালস (RR)। মুম্বই পল্টনকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে পৌঁছে গেল রাজস্থান। এবারের আইপিএলের শুরুটা বেশ ভালোই করেছে রাজস্থান। আইপিএল একেবারে জমজমাট। আর চলতি আইপিএলের মাঝে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক মর্মান্তিক ঘটনা স্থানীয় ক্রিকেটমহলকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। খেলাধুলার মাঠ, যেখানে প্রতিযোগিতা আর আনন্দের মেলবন্ধন হওয়ার কথা, সেখানেই ঘটে গেল রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ড। একজন আম্পায়ারকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক দর্শকের বিরুদ্ধে।
বিশাখাপত্তনমে আম্পায়ার খুনে চাঞ্চল্য

রবিবার অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে দায়িত্বে ছিলেন দুই আম্পায়ার – ডোলা অজিত বাবু এবং বুদুমুরি চিরঞ্জীবী। ম্যাচের শুরুটা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। এক অনবদ্য খেলা দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল দুই দলের মধ্যে। কিন্তু একটি বিতর্কিত রান আউট সিদ্ধান্তই সব কিছু বদলে দেয়। সিদ্ধান্তটি নিয়ে আপত্তি তোলেন কিছু খেলোয়াড়। রান আউট বিতর্ক নিয়ে, শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। দুই দলের ক্রিকেটাররাই এতে জড়িয়ে পড়েন। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে আম্পায়াররা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মাঠের উত্তেজনা তখনও বজায় ছিল। এই সময়েই এক দর্শক কান্তা কিশোর যিনি ঘটনার কেন্দ্রে উঠে আসেন।
Read More: ‘এক পয়েন্ট ভিক্ষা দিয়েছি ..’, দাদার অপমানের জবাব দিয়ে KKR’কে কটাক্ষ শ্রেয়স আইয়ারের বোনের !!
অভিযোগ, তিনি শুরু থেকেই আম্পায়ার ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে গালিগালাজ করছিলেন। তাঁর আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ধীরে ধীরে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কান্তা নিজেই আম্পায়ারদের তাঁর কাছে ডেকে পাঠান। সমস্যার সমাধান করতে অজিত ও চিরঞ্জীবী তাঁর কাছে যান। তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েকজন খেলোয়াড় ও দর্শকও সেখানে উপস্থিত হন। কিন্তু সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। রান আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে আবারও তর্ক শুরু হয়।
দর্শকের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল ২১ বছরের আম্পায়ারের
হঠাৎই কান্তা তাঁর পকেট থেকে একটি ধারালো অস্ত্র বের করে অজিত বাবুর উপর হামলা চালান। এই আকস্মিক হামলায় অজিত গুরুতর আহত হন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে চিরঞ্জীবী এবং এক দর্শকও আহত হন। মুহূর্তের মধ্যে খেলার মাঠ পরিণত হয় বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে শুরু করেন। চিরঞ্জীবীও আহত অবস্থায় সেখান থেকে সরে যান। অন্যদিকে উপস্থিত লোকজন দ্রুত অজিতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত কান্তা কিশোর পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি চলছে। বিভিন্ন সম্ভাব্য জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। অজিত বাবুর পরিবার এই ঘটনায় শোকে ভেঙে পড়েছে। তাঁর বাবা ডোলা আপ্পালা রাজু ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি চান, অভিযুক্ত যেন দ্রুত ধরা পড়ে এবং কঠোর শাস্তি পায়।