টি–২০ বিশ্বকাপ খেলবে না—এই বার্তা দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আলোড়ন তুলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কথা তুলে বিসিবি চিঠি পাঠিয়েছিল আইসিসিকে। কিন্তু সেই দাবির বাস্তবতা যাচাই করে আইসিসি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান কার্যত কোণঠাসা। আইসিসির তরফে জানানো হয়েছে, স্বাধীনভাবে করা ‘রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’-এ কোনও বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রমাণ মেলেনি। তার সাথে এবার বাংলাদেশের সাথ ছাড়লো পাকিস্তান।
সূচি বদলের সব দরজা কার্যত বন্ধ

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতা ও মুম্বইয়ে বাংলাদেশ দলের ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা ‘লো টু মডারেট’। অর্থাৎ, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নয়। শুরুতে শোনা যাচ্ছিল, বিসিবির আপত্তি আংশিক মেনে নিয়ে কিছু ম্যাচ দক্ষিণ ভারতের ভেন্যুতে সরানো হতে পারে।
Read More: বিসিবির প্রস্তাবে সায় নেই, বিশ্বকাপের গ্রুপ বদল করবে না আয়ারল্যান্ড !!
কিন্তু ইতিবাচক রিপোর্ট আসার পর সেই ভাবনাও বাতিলের পথে। আইসিসির পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি ঠিকই, কিন্তু ইঙ্গিত স্পষ্ট। সূচি বদলের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এই পুরো বিতর্কে সবচেয়ে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে করা কিছু মন্তব্য। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের দাবি ছিল, আইসিসি নাকি মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। কিন্তু আইসিসি স্পষ্ট করেছে—এ ধরনের কোনও মন্তব্য বা আশঙ্কা তারা প্রকাশ করেনি।
বিসিবির হাত ছাড়লো পাকিস্তান

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে বিসিবি হয়তো রাজনৈতিক বা অভ্যন্তরীণ চাপ সামলানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সিদ্ধান্ত হয় তথ্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে, অনুমান বা আশঙ্কার উপর নয়। আইসিসি সেটাই আবারও প্রমাণ করল। অবস্থায় বিসিবির কৌশল নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। পাশাপাশি কয়েক দিন আগেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভির একটি বয়ান বেশ ভাইরাল হয়েছিল। সেই বয়ান অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশের নতুন ভ্যানু হিসাবে পাকিস্তানকে বেছে দিয়েছিলেন এবং সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছিলেন। তবে, শেষ মুহূর্তে নাকভিও সরে দাঁড়ালেন বাংলাদেশের থেকে। আইসিসির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হলো ভারত বনাম পাকিস্তানের ম্যাচ, এই ম্যাচের উপর টিকে রয়েছে আইসিসির সবথেকে বেশি রাজস্ব। তাই আইসিসি বা পাকিস্তান চাইবে না ভারতের গ্রুপ থেকে অন্য গ্রুপে সরে যেতে। সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ বদল করতে চাইলেও আইরিশরা না করে দিয়েছে।