নাগপুরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের জয়ের নায়ক হিসেবে যাঁর নাম উঠে এসেছে, তিনি অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। কিন্তু এই জয় শুধু স্কোরবোর্ডের পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মাত্র ৩৫ বলে ৮৪ রান—এই ইনিংসের প্রতিটি শটে ছিল আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পনা এবং পরিণত মানসিকতার ছাপ। মাত্র ২২ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করে অভিষেক দেখিয়ে দেন, কীভাবে শুরু থেকেই ম্যাচের গতি নিজের হাতে নেওয়া যায়। এই ইনিংসের উপর ভর করেই ভারত নিউজিল্যান্ডকে ৪৮ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে যায়। এই ইনিংসের পর প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কারও প্রশংসায় মুখর হন।
দাপুটে ইনিংস খেললেন অভিষেক শর্মা

তরুণ অভিষেক শর্মার সঙ্গে প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কারের হাসিমুখে কথোপকথন যেন দুই প্রজন্মের ক্রিকেট ভাবনার মুখোমুখি সাক্ষাৎ। গাভাস্কার মজা করে বলেন, এখনকার ব্যাটাররা যত বলে অর্ধশতক করে, সেই সংখ্যক বলেই তাঁর সময় প্রথম রান তুলতে হত। এই রসিকতার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল সময়ের পরিবর্তনের স্বীকৃতি। ম্যাচ শেষে নিজের ব্যাটিং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিষেক স্পষ্ট করে জানান, তাঁর আগ্রাসন আবেগতাড়িত নয়। এটি পরিকল্পিত ইনটেন্ট। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে শুরুতেই তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে খেলতে হবে।
Read More: “একেই বলে যোগ্য জবাব..”, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুরন্ত জয়ে ভারতীয় দলকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা !!
সেই নির্দেশ মেনেই তিনি ব্যাট করেছেন। তিনি নিজেকে হাই-রিস্ক ব্যাটার মনে করেন না। বরং প্রথম ছয় ওভারে বড় শট খেলার জন্য নিয়মিত অনুশীলন করেন, কিন্তু সব সময় টাইমিংয়ের উপর জোর দেন। নেট সেশনে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও ভিডিও অ্যানালিসিস তাঁর প্রস্তুতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ম্যাচে ভারতের শুরুটা ভালো না হলেও অভিষেক ছিলেন দৃঢ়। সঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিষাণ দ্রুত ফিরে গেলেও, অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে ৯৯ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোরের পথে নিয়ে যান তিনি। সব মিলিয়ে ভারতের ৪৮ রানের জয়ে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।