আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026) শুরু হওয়ার আগে গুজরাট টাইটান্সকে (GT) ঘিরে প্রত্যাশা তুঙ্গে। কারণ শুভমন গিলের নেতৃত্বে দলটি এবার নিজেদের নতুনভাবে প্রমাণ করতে চায়। ২০২৫ সালে ভারতের অধিনায়ক হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জন করার পর গিল এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর নেতৃত্বে গুজরাট আরও বেশি শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করবে। গতবার অরেঞ্জ ও পার্পেল ক্যাপ ছিল গুজরাটের ঘরে। গত মৌসুমে গুজরাট দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছিল। তবে শেষের দিকে পরস্পর পরাজয়ের কারণে টুর্নামেন্ট থেকেও ছিটকে যেতে হয়। ২০২৫ – এর আইপিএলে এলিমিনেটরে ছিটকে গিয়েছিল গুজরাট। গুজরাট এবার মোটা টাকা খরচ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডারকে দলে শামিল করেছে যেটি দলের জন্য মহামূল্যবান একজন খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারেন।
গুজরাট টাইটান্সের শক্তি

ক্যাপ্টেন শুভমান গিল এবং সাই সুধর্শনের ওপেনিং জুটি প্রতিপক্ষের জন্য দুঃস্বপ্ন হতে পারে। তারা ধারাবাহিকভাবে রান করে এবং দলের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। তিন নম্বরে জস বাটলারের উপস্থিতি গুজরাটের ব্যাটিংকে আরও শক্তিশালী করে। তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করতে পারেন। মিডল অর্ডারে টম ব্যান্টন এবং অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডারের মতো খেলোয়াড়রা দলে গভীরতা যোগ করেছেন। তাছাড়া প্রয়োজনে গ্লেন ফিলিপসকেও ব্যাবহার করতে পারে দল। ফিলিপস শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে নন, বলার হিসাবেও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বোলিং বিভাগেও গুজরাট অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ -যিনি গতবারের আইপিএলে পার্পেল ক্যাপ জিতেছিলেন, মোহাম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাডা এবং রশিদ খানের মতো বোলারদের নিয়ে গঠিত আক্রমণ যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলতে সক্ষম। স্পিন বিভাগে রশিদের সঙ্গে ওয়াশিংটন সুন্দর এবং সাই কিশোর দলের বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে। ফলে পিচের ধরন অনুযায়ী গুজরাট সহজেই নিজেদের কৌশল বদলাতে পারে। তবে দলের কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যা তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপশি, দলে ইশান্ত শর্মার মতন প্রমুখ পেসার রয়েছে যিনি প্রয়োজনে দলের ইমপ্যাক্ট ফুল প্লেয়ার ও অসাধারণ স্পেল করার ক্ষমতা রাখেন।
Read More: রাজস্থান বিক্রি হতেই কোটি-কোটি টাকা পাচ্ছে শেন ওয়ার্নের পরিবার, তারকার বুদ্ধি দেখে তাজ্জব ক্রিকেট মহল !!
গুজরাট টাইটানসের দুর্বলতা

টপ অর্ডারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা একটি বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। গত মৌসুমে শেষের দিকে মিডিল অর্ডারে বেশ সমস্যার মুখে পড়তে দেখা গিয়েছিল গুজরাতকে। যদি ওপেনাররা দ্রুত আউট হয়ে যায়, তাহলে মিডল অর্ডারকে বড় দায়িত্ব নিতে হয়, যেখানে ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যায়। এছাড়া শাহরুখ খান, রাহুল তেওটিয়া ও রশিদ খানের ফর্ম নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গত মৌসুমে এই ত্রয়ী খুব একটা সফল ছিলেন না। পাশাপাশি স্পিন আক্রমণের কথা বলতে গেলে, রশিদ খান তার ধার হারিয়েছেন। আইপিএলের মঞ্চে গত দুই মৌসুম জুড়ে সেভাবে সফলতা পাননি তিনি। এমনকি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা বিশ্বব্যাপী টি-টোয়েন্টি লিগেও তার পারফরমেন্সের বেশ প্রভাব দেখা গিয়েছে।
গুজরাট দলের এক্স ফ্যাক্টর

দলের এক্স ফ্যাক্টর খেলোয়াড় হলেন সাই সুধর্শন। গত মরসুমে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ এবং তিনি দলের প্রধান রান স্কোরার হিসেবে অরেঞ্জ ক্যাপও জিতেছিলেন। যদি তিনি আবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে গুজরাটের জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। গত কয়েক মৌসুম জুড়েই ধারাবাহিক ভাবে রান বানাচ্ছেন তিনি। ভারতের হয়ে বা ঘরোয়া ক্রিকেটে রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। এবারের আইপিএলে গুজরাটের ট্রফি জয়ের স্বপ্ন পূর্ণ করতে সুদর্শনকে সেরাটা দিতেই হবে।