সাবেক ভারত অধিনায়ক কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্ত ভারতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর-এর (Gautam Gambhir) নেতৃত্বে নেওয়া সিদ্ধান্তকে তিনি ‘একেবারে হাস্যকর’ বলে আখ্যা দেন। আন্তর্জাতিক টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হারের পর তিনি এমন মন্তব্য করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন ডেভিড মিলার, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও ট্রিস্টান স্টাবস। জবাবে ভারত মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে মার্কো ইয়ানসেন চারটি এবং কেশব মহারাজ তিনটি উইকেট নেন।
ভারতের লজ্জাজনক হারে মুখ খুললেন শ্রীকান্ত

শ্রীকান্ত বিশেষভাবে সমালোচনা করেন হার্দিক পান্ডিয়া-কে সাত নম্বরে নামানো নিয়ে। মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, “এটা একেবারে হাস্যকর ছিল। আজ সব দিক থেকেই ভারত অপমানিত হয়েছে। সাধারণত আমরা প্রতিপক্ষকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলি, কিন্তু আজ উল্টোটা হয়েছে। হার্দিক পান্ডিয়া চাপের পরিস্থিতিতে পাঁচ নম্বরে ভালো করেছে। ওর পাঁচ নম্বরেই নামা উচিত ছিল। কিন্তু তাকে সাত নম্বরে পাঠানো হয়েছে, যা পুরোপুরি অন্যায়। হার্দিক পান্ডিয়া সাত নম্বরে নামানো ছিল হাস্যকর সিদ্ধান্ত।”
Read More: চোট নিয়েই বিশ্বকাপ খেলছে অভিষেক, BCCI’এর প্লান পর্দা ফাঁস !!
এছাড়া ঈশান কিশান (Ishan Kishan) ও রিঙ্কু সিং-এর (Rinku Singh) ব্যাটিং নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শ্রীকান্ত বলেন, “ঈশান কিশান আগের বলেই প্রায় মিড-অনে ক্যাচ দিচ্ছিল, তারপরও পরের বলটা স্লগ করতে গেল। পরের বলটা মারার এত দরকার ছিল? রিঙ্কু সিং যেখানেই ব্যাট করতে নামছে, এক অঙ্কেই আউট হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে খেলা সহজ, বড় আসরে সেটা আলাদা। ব্যাটাররা এখন নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিধায় ভুগবে। অভিষেক শর্মা এই ম্যাচে স্ট্রাইকার থেকে নন-স্ট্রাইকার হয়ে গেছে।”
ব্যাটসম্যানদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শ্রীকান্ত

তিনি আরও বলেন, “ভারতের ব্যাটারদের মানসিকতা আরও নেতিবাচক হয়ে যাবে। পুরো প্রতিযোগিতা জুড়ে ভারতের ব্যাটিং ধারাবাহিক ছিল না। এক-দুজন খেলোয়াড়ের ওপর ভর করেই চলছিল, আর এই ম্যাচে সেটাও কাজ করেনি। (শিবম) দুবে শেষে কয়েকটা ছক্কা মেরেছে, কিন্তু খেলা তখন প্রায় শেষ- ওগুলো ছিল একেবারে ফাঁকা রান।” এখন ভারতের সামনে সমীকরণ কঠিন। টিকে থাকতে হলে বাকি দুই ম্যাচ বড় ব্যবধানে জিততে হবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবং ১ মার্চ কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে ভারত।